বাংলাদেশে চালু টিকটক স্টেম ফিড

বাংলাদেশে চালু টিকটক স্টেম ফিড
৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৫০  
৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:২৪  

তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত আসক্তি, আপত্তিকর ও দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী কনটেন্ট প্রচার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে যখন ছোট ভিডিওর প্ল্যাটফর্ম টিকটককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে; তখনই এই মাধ্যমটিতে স্টেম এড্যুকেশন চালু করলো বাংলাদেশ। অ্যাপটির মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতের কন্টেন্টকে প্রাধান্য দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলো। একই সঙ্গে সমাজে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী, বিশেষ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্টেম শিক্ষা বিস্তারে কীভাবে কাজ করা যায় তারও একটি রূপরেখা তৈরি করতে চায় টিকটক বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে তারা দূর করতে চায় শহর-গ্রামে সুযোগের বৈষম্য। 

৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘টিকটক স্টেম ফিড’ চালু নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরা হয়। নতুন এই উদ্যোগটি উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এসময় শিল্পকলার সঙ্গে টিকটক কর্তৃপক্ষকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বললেন, আমাদের বেশির ভাগ শিল্পকলা কাজ করছে না। নাম কা ওয়াস্তে আছে। এখন আর শিল্পকলা থেকে শিখে তেমন আর নতুন নতুন শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। অর্থাৎ এটি ঠিকঠাক কাজ করছে না। এজন্য আমাদের টিম কাজ করছে। অনলাইন ও অফলাইন দুই দিকেই কাজ চলছে। একদিন ফিজিক্যাল ক্লাস না করে সপ্তাহ জুড়েই যেন অনলাইন কাজ হয় সেই কাজ চলছে। এক্ষেত্রে শিল্পকলার সঙ্গে টিকটক কাজ করতে পারে।  

তিনি আরো বলে ,“বাংলাদেশের তরুণরা কৌতূহলী এবং সৃজনশীল। যদি এই সৃজনশীলতাকে আমরা কোনো নিরাপদ আর নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সাথে যুক্ত করতে পারি, তখন সমস্যার সমাধান এবং উদ্ভাবনের চর্চা করা সম্ভব হয়। টিকটকের স্টেম ফিডের মতো টুলস শিক্ষা গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে তুলে এবং স্থানীয় ভাষায় মানসম্পন্ন শিক্ষা সহজেই পৌঁছে দিতে পারে।”

টেনমিনট স্কুলের টিকটক অ্যকাউন্টে নতুন  কন্টেন্ট আনার কথা জানিয়ে উদ্যোগটির সহ প্রতিষ্ঠাতা আইমান সাদিক বললেন, ডিজিটাল শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে উদ্যোগটি। আমরা আগে থেকেই টিটটকে আছি। এখন স্টেম ফিড আরো বেশি ফোকাস হবো। 

টিকটকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের হেড অফ পাবলিক পলিসি ও গভর্নমেন্ট রিলেশনস, ফেরদৌস মোত্তাকিন বলেন, “স্টেম ফিড এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে কমিউনিটির জন্য শিক্ষাকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ করবে বলে আমি মনে করি। অভিভাবক, শিক্ষক এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একসাথে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এই প্ল্যাটফর্মটি ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও তরুণদের ক্ষমতায়নে দেশের লক্ষ্যকে সহায়তা করবে।” 

কন্টেন্ট মডারেশন বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তৃতীয় পক্ষের সহযোগী এবং টিকটকের নিজস্ব কর্মীরা এ নিয়ে কাজ করছে। কন্টেন্টের মান উন্নয়নে তারা প্রতিদিনই কিছু না কিছু উন্নতি করছেন। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক এবার বাংলাদেশে চালু করল ‘স্টেম ফিড’ (STEM Feed)—একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (STEM) বিষয়ে শিক্ষণীয় ও আকর্ষণীয় ভিডিও শেয়ার করা যাবে। টিকটক ও বাংলাদেশের সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা। এজন্য, স্টেম ফিডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজে বিজ্ঞানভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, শেয়ার ও শিখতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার বাড়াতে পারবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

টিকটকের আঞ্চলিক নীতি বিষয়ক প্রধান মেলিসা পলিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের কৌতূহল ও সৃজনশীলতা যদি আমরা ডিজিটাল শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারি, তবে এটি শিক্ষার ক্ষেত্রকে আমূল বদলে দিতে পারবে। টিকটক চাইছে, শেখা যেন আনন্দের হয় এবং সবার নাগালের মধ্যে আসে।”

তিনি আরও বলেন, টিকটক দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল শিক্ষার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে, আর বাংলাদেশের এই উদ্যোগ সেটিরই অংশ।

‘#STEMTok’ হ্যাশট্যাগে তৈরি হবে শিক্ষামূলক কনটেন্ট

টিকটক জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা এখন থেকে #STEMTok হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত ও প্রকৌশলবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে। কনটেন্টগুলো যাচাই করে ‘স্টেম ফিড’-এ প্রদর্শন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কনটেন্ট থেকে উপকৃত হয়।

এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ওয়ার্কশপে শেখানো হবে কীভাবে সংক্ষিপ্ত ভিডিওর মাধ্যমে জ্ঞান শেয়ার করা যায়, যাতে শিক্ষার বিষয়বস্তু আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ডিজিটাল শিক্ষায় নিরাপত্তার দিকেও জোর

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকটক চালু করেছে নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার—এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি পেয়ারিং ফিচার’, ‘সেফ-সার্চ মোড’ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ কনটেন্ট রিকমেন্ডেশন সিস্টেম। টিকটক বলছে, এসব ফিচার কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

সরকারি সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ডিজিটাল বাংলাদেশের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে জনপ্রিয় করতে এবং তরুণদের সৃজনশীল দক্ষতা বিকাশে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

আইসিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “ডিজিটাল শিক্ষা এখন সময়ের দাবি। টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম যদি দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষামূলক কনটেন্টে বিনিয়োগ করে, তবে তা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে।”

স্টেম ফিডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু শেখার সুযোগই পাবে না, বরং নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাকে ভিডিও আকারে তুলে ধরার সুযোগও পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।