ইসি’র ডেটাবেইজ থেকে ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো ‘সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড’ দেওয়ার কার্যক্রম অনলাইনে বাধ্যতামূলক করার পর সৃষ্ট জটিলতায় সাংবাদিকদের তোপের মুখে সেই পথ থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এর আগে সাংবাদিক কার্ড ও স্টিকার পেতে ইসির অনলাইন সিস্টেমে আবেদনকারী প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের সব তথ্য ইসির ডেটাবেইজে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
অনলাইনে আবেদন বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৩১ জানুয়ারি, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ইসির ওয়েবসাইট থেকে আবেদনকারী সাংবাদিকের এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বরসহ আবেদনের কপি উন্মুক্ত হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd–এর মাধ্যমে এসব আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন এই সাংবাদিকরা।
ইসির নির্ধারিত এই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিকেল ৪টার পর কেউ লগইন করে ওয়েবসাইটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ১৪ হাজার সাংবাদিকের আবেদনের তালিকা হোম পেজে চলে আসছে। ওয়েবসাইটের হোম পেজে তালিকা আসার পাশাপাশি আবেদনকারীর নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদন ওপেন করার অপশন চলে আসে। তবে কিছু সময় পর আর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যায়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার অনলাাইন নিবন্ধন সিস্টেমটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। কবে ৩১ জানুয়ারি, শনিবার বিকেলে ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি ওপেন করেছিলেন। তবে এখন ওয়েবসাইট বন্ধ আছে। সাড়ে ৫টার দিকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে বিষয়টিকে ‘কোনো ছোটখাটো টেকনিক্যাল গ্লিচ নয়। এটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার সরাসরি প্রমাণ’ বলে অভিহিত করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর জোহা।
তিনি বলেছেন, এটা শুধু “ভুল করে ওপেন হয়ে গেছে” এমন কিছু নয়। প্রশ্নটা আরও গভীর। প্রথমত, একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন একটি সিস্টেম চালু করে, যেখানে ডাটা প্রোটেকশন, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, বেসিক সিকিউরিটি টেস্টিংই নেই? দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের আপত্তি সত্ত্বেও কেন এই সিস্টেম চালু করা হয়েছিল? তৃতীয়ত, অনলাইন সিস্টেম বন্ধ করার পর আবার কীভাবে, কার অনুমতিতে, একজন অ্যাডমিন পুরো ডাটাবেস উন্মুক্ত করে দিতে পারেন? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য এখন কোথায়? কপি হয়েছে কি না, ডাউনলোড হয়েছে কি না, তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে গেছে কি না—এর কোনো জবাব মেলেনি।
এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক অডিট করে কী পরিমাণ ডাটা এক্সপোজড হয়েছে তার স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অনলাইন পদ্ধতিতে অনলাইন সিস্টেম চালু কররা ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাংবাদিকরা বৈঠক করে আল্টিমেটাম দিলে ইসি অনলাইন সিস্টেম থেকে সরে এসে আগের পদ্ধতিতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ডিবিটেক/ডিপিএন/এইচই







