'আইসিসি টক' আইপিটিএসপি'র নেতৃত্বে সোহেল সিকদার
বর্তমান বিশ্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে আইপি-ভিত্তিক টেলিফোন প্রযুক্তি। ইন্টারনেট প্রোটোকলের মাধ্যমে ভয়েস ও ভিডিও কল পরিচালনার ফলে যোগাযোগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। সেবার মান বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে ইন্টারনেটভিত্তিক টেলিফোন সেবায় আইপিটিএসপি (ইন্টারনেট প্রোটকল টেলিফোনি সার্ভিস প্রোভাইডার্স) দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
সেবার নিরাপত্তা, কল মনিটরিং এবং মান নিশ্চিত করে বাংলাদেশে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে 'আইসিসি টক' টেলিসেবাটি। বিটিআরসি-এর নীতিমালা অনুযায়ী আইপিটিএসপি সেবা দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে বৈধ ও কাঠামোবদ্ধভাবে ডিজিটাল রূপান্তরের সুযোগ দিচ্ছে।
এই কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রথম ধাপেই ২০১০ সাল থেকে আইপি টেলিফোনি অবকাঠামো উন্নয়ন, এন্টারপ্রাইজ ভয়েস সল্যুশন, কর্পোরেট কলিং সিস্টেম এবং কল সেন্টার প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেড। সেবা দিতে ১৮টি কোম্পানি লাইসেন্স পেলেও শীর্ষ তিনেই জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির আইসসি টেলিসার্ভিস ইউনিট। সম্প্রতি আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেডের হেড অফ আইপিটিএসপি হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই খাতে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ মোঃ সোহেল সিকদার। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কল সেন্টার, কর্পোরেট অফিস এবং বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইপি টেলিফোনি সেবা চালু করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
তার তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি এখন আধুনিক সফটসুইচ, এসআইপি-ভিত্তিক কলিং সিস্টেম এবং নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করে গ্রাহকবান্ধব আইিপিটিএসপি সেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল খরচ কমছে, অন্যদিকে কল ম্যানেজমেন্ট, রিপোর্টিং ও কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থায় নতুন দক্ষতা যুক্ত হচ্ছে।
সেবাকাঠামো পূণর্বিন্যাসে যুক্ত হওয়া আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেডের হেড অফ আইপিটিএসপি মোঃ সোহেল সিকদার বলেন, “প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই পারে যোগাযোগকে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই করতে আইপিটিএসপি শুধু একটি টেলিফোন সেবা নয়, এটি ভবিষ্যৎ ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিমধ্যে কম খরচে ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তিসেবা দিয়ে আইসিটি টেলসোর্ভিস ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে টেলিসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা।”
“আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেডের মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে দক্ষ নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত উদ্যোগ থাকলে আগামী দিনে বাংলাদেশ আইপিটিএসপি ও আইপি-ভিত্তিক যোগাযোগ সেবায় আরও এগিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক টেলিযোগাযোগ বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে”- যোগ করেন তিনি।
টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিটিএসপি প্রযুক্তির বিস্তার বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কার্যকর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ক্লাউড, ডেটা সেন্টার ও আইটি-ম্যানেজড সার্ভিসের সঙ্গে আইপিটিএসপি সমন্বয় ভবিষ্যতের স্মার্ট কমিউনিকেশন ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে। এই খাতের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব এবং ব্যবসায় বান্ধব নীতিমালা এখন সময়ের দাবি।
ডিবিটেক/এনডি/ইকে







