ঈদের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভরতা বেড়েছে
ঈদের টানা ৭ দিনের ছুটিতে (১৭ থেকে ২৩ মার্চ) রাজধানী ঢাকা এখন ফাঁকা। এমন পরিস্থিতিতে ফাঁকা বাসাবাড়িতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই শঙ্কা থেকে নাগরিকদের মধ্যে অ্যপ ভিত্তিক আইওটি ডিভাইসের ব্যবহারের পাশাপাশি এবার যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর পুলিশিং।
সিসিটিভি'র সঙ্গে স্মার্ট ডোর লকের ব্যবহার এবং অ্যাপের (স্যুইচ) মাধ্যমে ঘরের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের মতো প্রযুক্তি নির্ভর ডিভাইস ব্যবহার করছেন নগরবাসী। বনশ্রীতে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী বদিউজ্জামান জানালেন, তিনি এবার ঘরের মেইন গেইটে স্মার্ট লক লাগিয়েছেন। এই লক কেউ ভাঙতে গেলেই দুবৃত্তের ছবি চলে যাবে তার মোবাইল ফোনে। সঙ্গে তিনি তার বাসার ঠিকানাসহ অপরাধীর ছবি ৯৯৯ এ পাঠিয়ে দিতে পারবেন তৎক্ষনাৎ।
এদিকে প্রচলিত পুলিশিংয়ের বাইরে গিয়ে এবার প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নজরদারিতে জোর দিয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও। নগরজুড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের কাজ পর্যবেক্ষণে প্রতিটি টহল গাড়িতে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) বসানো হয়েছে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন গাড়ি কোথায় যাচ্ছে, কতক্ষণ টহল দিচ্ছে-সবকিছুই কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।
প্রযুক্তি নির্ভর পুলিশিং এর বিষয়টি উঠে এসছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের কণ্ঠেও। তার ভাষায়, সম্ভাব্য সব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের সমন্বিত তৎপরতায় ফাঁকা ঢাকাকেও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসায় কেবল সিসিটিভি থাকলেই হবে না; বাড়ি যাওয়ার আগে ফ্ল্যাটের সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না দেখে নিতে হবে। গ্যাসের মেইন সুইচ বন্ধ রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে রাখা, বারান্দায় কাপড় মেলে না রাখা এবং ফেসবুকে ‘ চেক-ইন’ দেওয়া থেকে বিরত থাকা নিরাপদ।
প্রযুক্তিবিদ ও সিক্যাফ উপদেষ্টা মেহেদী হাসান বলেন, অপরাধীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও নজর রাখে। অনেকেই পরিবারসহ ঈদযাত্রার ছবি, টিকিট বা লোকেশন তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করেন, এতে সহজেই বোঝা যায় বাসা ফাঁকা—ফলে চুরি বা অন্য অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে লাইভ লোকেশন বা ভ্রমণের আপডেট থেকে অপরাধীরা অবস্থান জেনে টার্গেট করতে পারে। তাই নিরাপত্তার জন্য ভ্রমণের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে না দিয়ে, পরে শেয়ার করাই ভালো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সময়ের সাথে সাথে অপরাধের ধরন এখন অনেক পাল্টেছে। আগে শুধু গ্রিল কেটে চুরি হতো, এখন চোরচক্রের দলে থাকে লকার বা ডিজিটাল ভল্ট ভাঙার এক্সপার্ট। অনেক সময় তারা ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে তথ্য সংগ্রহ করে। আবার কখনো বাড়ির দারোয়ানকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে অবলীলায় লুটপাট চালায়।
এ নিয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, অভিজাত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশি থাকলেও নজরদারির অভাবে সেগুলোই অপরাধীদের প্রথম টার্গেটে পরিণত হয়। চোর চক্র সাধারণত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের আগে দেখে, কোন বাসা টানা কয়েক দিন অন্ধকার ও নিস্তব্ধ। তাই সম্ভব হলে টাইমার লাইট, স্বয়ংক্রিয় লাইট বা বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে মাঝেমধ্যে লাইট জ্বালানো-নেভানোর ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
এছাড়াও সিসিক্যামের মতো নিরাপত্তা ডিভাইসগুলোর পাওয়ার যেন বিচ্ছন্ন না হয় সে জন্য ব্যাকআপ লাইনে কিংবা সোলার পাওয়ারে সংযুক্ত রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। একইসঙ্গে দূর থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ যেন নিরাপদ থাকে সেজন্য রাওটারে শক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও ফায়ারওয়ালের নিরাপত্তাকেও আমলে নেয়ার তাগিদ তাদের।
ডিবিটেক/এসএমইএইচ/এমইউএম



