ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সমাধান গড়াচ্ছে আগামী সপ্তাহে

৩১ অক্টোবর, ২০২৩ ২১:৫৩  

রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডে রাজধানীর মহাখালীস্থ খাজা টাওয়ারের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল কাটা যাওয়ার আট ঘণ্টা পর ইন্টারনেটের গতি সমস্যা সোমবার রাতেই উন্নতি হয়েছে। আর মঙ্গলবার প্রথম প্রহর থেকে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই ৪ আপগ্রেড করার কাজ। এর ওপর রাজধানীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ইন্টারনেট স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) মতিঝিল এলাকার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের কেবল কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে ইন্টারনেট সেবা বঞ্চিত হন মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, পল্টনসহ আশপাশের কিছু এলাকার মানুষ।  ধারণা করা হচ্ছে এই ঘটনার ফলে এখনো ঢাকার ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন। 

এ বিষয়ে আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন মতিঝিল এলাকায় ভিভিআইপি মুভমেন্ট থাকার কারণে আগামী দুদিনের মধ্যে বিচ্ছিন্ন তার সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে পুরো মতিঝিল এলাকায় আগামী ৩-৪ দিন ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে কিংবা ধীরগতির হবে। আর কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে ওই এলাকার কমপক্ষে ৫-৬ হাজার গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তবে আশার কথা, ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের ক্লিয়ারেন্স না থাকায় এতদিন খাজা টাওয়ারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখা হলেও। মঙ্গলবার সংযোগ দেয়ার ক্লিয়ারেন্স মিলেছে। ফলে বুধ-বৃহস্পতিবারের মধ্যে ফের খাজা টাওয়ারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া শুরু হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো টাওয়ারে বিদ্যুৎব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও ৬-৭ দিন লাগতে পারে- যোগ করেন আইএসপিএবি সভাপতি।

এদিকে মঙ্গলবার দিন শুরুতেই গতি আবার মন্থর হয়ছে। ধীর গতিতে চলছে উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে। ভু্ক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, কোনো ওয়েবসাইট খুলতে গেলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবশ্য ইন্টারনেট নিয়ে সাময়িক এ সমস্যা হওয়ার কথা আগাম জানিয়ে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি)। বিজ্ঞপ্তি দিয় জানিয়ে দেয়া হয়, ক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ ৪ (সি-মি-উই ৪) সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কক্সবাজারে স্থাপিত সার্কিটগুলো ৩০ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা এবং ১ নভেম্বর দিবাগত রাত ২টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা আংশিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। সঙ্গত কারণে নতুন মাসের শুরুতেই ইন্টারনেট নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না নেটিজেনরা। এরওপর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাংলাদেশের খেলা থাকায় এখন ফেসবুক, ইউটিউব ও অনলাইনে ট্রাফিক বাড়ায় মাঝে মাঝেই ইন্টারনেটের গতি আপ-ডাউন করবে।

অবশ্য সি-মি-উই ৫ চালু থাকায় ইন্টারনেট সেবায় নাকাল হতে হচ্ছে না। আংশিক বিঘ্ন হচ্ছে। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন দেশের আইএসপি ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে আইএসপিএবি সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভুইয়া জানিয়েছেন, খাজা টাওয়ার থেকে লাইন স্থানান্তরের সময় ভূগর্ভস্থ লাইন কেটে দেয়ায় তারা ২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ ঘাটতিতে পড়েছিলেন। আট ঘণ্টা পর সংযোগ ফিরে পেলেও সিমিউই ৪ আপগ্রেডের কাজ শুরু হওয়ায় আমাদের আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে সচল রাখতে হচ্ছে। এতে আমাদের কোনো হাত না থাকলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে ভর্ৎসনা পেতে হয়। আবার খরচও বাড়ে। কিন্তু এ ধরণে সমস্যায় আমরা কোনো ছাড় বা সহযোগিতা পাই না। এ বিষয়টা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন বলে প্রত্যাশা করি।

প্রসঙ্গত, দেশের মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার এখন ৫ হাজার জিবিপিএসের ওপরে দাঁড়িয়েছে। যার অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় ২ হাজার ৭০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্সের মাধ্যমে আসে, যা স্থল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাকি ২ হাজার ৪০০ জিবিপিএস দুই সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরবরাহ করে বিএসসিপিএলসি। বিএসসিপিএলসি ২০২৫ সালের মধ্যে সমুদ্রের নিচে তৃতীয় ক্যাবল সি-মি-উই ৬ থেকে আরও ১৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস পাবে।