ক্ষমতা জনগণের দিকে রাখতে চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে হবে : রিজওয়ানা

ক্ষমতা জনগণের দিকে রাখতে চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে হবে : রিজওয়ানা
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪১  

শাসকগোষ্ঠীর ভার জনগণের পক্ষ থাকতে হলে, ক্ষমতা জনগণের দিকে রাখতে চাইলে- ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।  

১১ জানুয়ারি (রবিবার) গুলশান-২-এর নগর ভবনে ‘নাগরিক পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সেবা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে নাগরিক পদক-২৫ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরিতে আপলিফট বাংলাদেশ এবং উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে আবদুর রশিদ সোহাগ ছাড়াও ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোট দেব। সেদিন দুটি ভোট দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সেটা চিন্তা করে দেবেন; যাতে পরে পস্তাতে না হয়। একই দিনে যে দ্বিতীয় ভোটটি দেবেন, সেটি হচ্ছে গণভোট। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী যদি সত্যিই সংস্কার চায়, তবে উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ হতে হবে। এই সুযোগ হেলায় হারালে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার সুযোগ আরও অনেক বছরের জন্য হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো পড়ার ও বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে সংস্কারের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি তরুণ সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তরুণরা যেভাবে স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তাতে শুধু খুশি হয়ে বসে থাকলে চলবে না। অতীতের মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অর্জন যেন বৃথা না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘ভয়কে আমাদের জয় করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার ভয়কে জয় করেছে। তরুণরা আমাদের জন্য গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনায় যে আত্মবিসর্জন দিয়েছে, তার প্রতিফলন আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রয়োগ করব।’

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রাপ্ত আপলিফট বাংলাদেশ পাঁচ বছর ধরে উন্নয়নভিত্তিক কনটেন্ট বানাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন এলাকাগুলোর ক্রমাগত পরিবর্তন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতিকে নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা তাদের কনটেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দিক।

এছাড়াও উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত আবদুর রশিদ সোহাগ পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ব্যস্ত মহানগরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহনব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই সেবায় ৪৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করছে। এর ফলে একদিকে অভিভাবকদের উদ্বেগ কমেছে, অন্যদিকে নগরীর রাস্তায় শত শত  ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমেছে।

পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে পদক পাওয়া ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজ ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। স্কুলটি কেবল শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতা বিকাশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে। পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার অংশ হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিবেশবান্ধব নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে।

প্রাণী সুরক্ষা ও প্রাণী অধিকার রক্ষা ক্যাটাগরিতে পদক পাওয়া প ফাউন্ডেশন (PAWF) শহরের আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি মানবিক ও সহনশীল নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ডিবিটেক/পিএডি/ইকে