বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে ফেসবুকে ঝড়

৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:১২  
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। আশরাফুল আলম সাগর নামের একজন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদ নামে যে ছেলেটা বুয়েটে খুন হয়ে গেলো, তার অপরাধ কী? বুয়েটের মত একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে তারা এতটা অসহিষ্ণু? নিজের জুনিয়র/ সহপাঠী/ বন্ধুকে পিটিয়ে মারার সময় তাদের একটুও খারাপ লাগলো না? হাত- বুক কাঁপল না?’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘রাস্তাঘাটে আমজনতার হাতে ছিনতাইকারী গণপিটুনিতে নিহত হলে আমরা শিক্ষার অভাবের কথা বলি। কিছুদিন আগে যখন গণ পিটুনিতে একাধিক নারী- পুরুষ নিহত হলো, সেখানেও কমশিক্ষিত মানুষদেরই দেখা গেছে। কিন্তু বুয়েট তো তেমন জায়গা না। সেখানে শুধু ভিন্নমতের জন্য একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হবে? কী জবাব দেবে বুয়েট? কী জবাব দেবে এই রাষ্ট্র? কী জবাব দেবো আমরা আবরারের বাবা-মা'র কাছে?’ ফাহাদের ৫ অক্টোবরের পোস্টটির ‍স্ক্রিনশট দিয়ে আয়াজ উর রহমান নামে একজন লিখেছেন, ‘তোমরা রাজপথে নেমো না, নামলে জনগণের ভোগান্তি হয়। তোমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিও না, প্রতিবাদ করো না! এসবে চেতনায় আঘাত লাগে। তোমরা সুশীলগীরী মারাও, এসব সুশীল দিয়া দেশের উন্নয়ন হবে না। চুপ রও, চুপ রও!’ সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘কি নির্মম পাশবিকতা! মধ্যরাতে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আবরার ফাহাদ নামে বুয়েটের এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। কারা হত্যা করলো সে বিষয়ে মুখ খুলছে না কেউ।’ মাহামুদ নাঈম নামের একজন লিখেছেন, ‘বুয়েটে শিক্ষার্থীকে হলের বড় ভাইরা পিটিয়ে মেরেই ফেলল। অপরাধ: ভিন্নমতাবলম্বী। বাংলাদেশ!’ রাহাত আহমেদ অশিন নামের একজন তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারত এর চুরির ব্যপারে স্ট্যাটাস দেয়ায় একজন কে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো,আর তোমরা এখন ও বিশ্বাস করো "স্বাধীন বাংলাদেশ"?? 'পরাধীন বাংলাদেশ' এ পাকিস্তান বিরোধী কথা বললে জেল নির্যাতন এর শিকার হইতে হতো, আর এখন 'স্বাধীন বাংলাদেশ' এ ভারত বিরোধী কথা বলায় নিজের জীবন দিতে হয়। পরাধীন 'পূর্ব পাকিস্তান' থেকে স্বাধীন 'ইউনাইটেড স্টেটস অব ইন্ডিয়া' মাঝের এই "বাংলাদেশ" শব্দ টা কি শুধুই ভ্রম!’ হেমায়েত কবির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ফাহাদের অপরাধ ছিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার প্রয়াস। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ (তৎকালীন আওয়ামী মুসলীম লীগ) এর পোষা গুন্ডাদের (ছাত্রলীগ) হাতে অকালে প্রাণ দিতে হলো ফাহাদকে।’ আহামেদ সোহাগ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারুকের কথা মনে আছে?তার মৃত্যুর পর সারাদেশে ভিন্নমত দমনের মহোৎসবে নেমেছিল রাষ্ট্র।কারণ ফারুক ক্ষমতাসীন দলের কর্মী ছিল।রাষ্ট্র এবার নিশ্চুপ থাকবে। যুবায়ের হত্যার বিচার হয় নি,বিশ্বজিৎ হত্যার হয় নি,আবুবকর হত্যার বিচার হয় নি।অভিশাপ দিচ্ছি এই রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি,বিচার ব্যবস্থার প্রতি।ধ্বংস হয়ে যাক বাংলাদেশ নামক জনপদ।আদ আর সামূদ জাতি যেমন হয়েছিল।’ জনি আরাফ খান লিখেছেন, ‘বিতর্কিত পেইজে লাইক আর দেশপ্রেমের স্ট্যাটাস দেয়ায় পিটিয়ে মেরে ফেললো!! "আবরার ফাহাদ" হত্যার বিচার ও প্রতিবাদ না করলে আমরাও মৃত। সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাসেল ও ফুয়াদ নাম দুই শিক্ষাথীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ আশরাফুল আলম শিবলী নামের একজন নিহত ফাহাদের ৫ অক্টোবর পোস্টোর ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘নুরুলদিনের কথা মনে পড়ে যায়,যখন শকুনরা নেমে আসে এই বাংলায়। নুরুলদিনের কথা মনে পড়ে যায়,যখন আমার দেশ ছেঁয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়। নুরুলদিনের কথা মনে পড়ে যায়,যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়। নুরুলদিনের কথা মনে পড়ে যায়,যখন আমার কন্ঠ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। নুরুলদিনের কথা মনে পড়ে যায়,যখন আমার দেশে, আমারই দেহ থেকে রক্ত ঝরে যায়,ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায়।’ এদিকে ফাহাদকে হত্যার সময়কার হারিয়ে যাওয়া সিসি ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষাথীরা প্রভোস্টের রুম অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোস্তাকিন ফুয়াদ এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলকে আটক করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মোনতাসিরুল ইসলাম আটকৃতদের নাম প্রকাশ না করেই বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাবে না। কেন ওই ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখছি। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ বিষয়ে চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ‘ফাহাদ হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফুয়াদ ও রাসেল নামে দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তারা দুজনই বুয়েটের শেরে-বাংলা হলে থাকেন।’ নিহত ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। ফাহাদ কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বরকত উল্লাহ ছেলে।