বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী’র জানাজা সম্পন্ন
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর জানাজা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন চাঁদপুরের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটা ৫০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের আমীর মাওলানা শফিকুর রহমান। এছাড়াও পৌনি তিনটায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়নের (ডিআরইউ) সামনে। জানাজায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সিনিয়র সদস্য সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, মহিউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক জাকির হুসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, নারী সম্পাদক মাহমুদা ডলি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুশান্ত কুমার সাহা, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ এবং কল্যাণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ডিআরইউ বহুমুখী সমবায় সমিতির সহ সভাপতি ও বিএফউইজে নেতা শাহীন হাসনাত, বিএফইউজে মহাসচিব শহীদুল ইসলাম প্রমুখ নামাজে জানাজায় অংশ নেন।
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক, ডিইউজে, বিএফইউজের নেতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের নেতা, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জানাজায় শরিক ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
নামাজের আগে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন। তিনি সবসময় দেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি গণমাধ্যমের জন্য সবসময় লড়াই করেছেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তিনি কারা নির্যাতিত ছিলেন। আমরা গণমাধ্যমকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করবো।
জানাজার আগে রহুল আমিন গাজীর ছেলে আদনান আবরার বলেন, তিনি সবসময় সত্য কথা বলার চেষ্টা করতেন। তিনি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবেন সবসময় এ কথা বলতেন। আমি গতকালকে বাবাকে দেখে অনেকে কষ্ট পেয়েছি। আর কোনোদিন আমার বাবা আমাকে ডাকবেন না। আপনারা আমার বাবকে ক্ষমা করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. জাহিদ বলেন, ভালো লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মহান রাব্বুল আলামিন রুহুল আমিন গাজী ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক। আমিন।
জমায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুহুল আমিন গাজী একজন সাহসী সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবরণ করেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তিনি দেশের জন্য, জাতির জন্য কাজ করেছেন। দেশের মানুষের পক্ষে সবসময় কথা বলেছেন। জাতি সারাজীবন তাকে মনে রাখবে।
কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, রুহুল আমিন গাজী অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, সহকর্মীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।







