বাংলাদেশে ব্লেন্ডেড শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রথম বৈশ্বিক পরামর্শ সভা
পরিবর্তীত বৈশ্বিকরপরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার মাধ্যম ও প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির বহুমাত্রিক ব্যবহার। সেই সূত্রে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ব্লেন্ডেড শিক্ষা প্যাডাগোজি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় বৈশ্বিক পরামর্শ সভা। সভায় ঘুরে ফিরে আসে কানেক্টিভিটি, ডিভাইস ও ইন্টারেক্টিভ কনটেন্ট এর বিষয়। সরকারি, বেসরকারি, এনজিও প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের অংশগ্রহণে পরীক্ষামূলক পদক্ষেপের পর্যালোচনা সভায় ছিলো জাতীয় পর্যায়ে ব্লান্ডেড শিক্ষার ধারণা, নতুন কারিকুলামের সঙ্গে এর সমন্বয় এবং প্যানেল আলোচনা। আলোচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় সবেচেয়ে বেশি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ও অ্যাস্পায়র টু ইনোভেট (এটুআই) এর যৌথ সহযোগিতায় ‘এক্সেলারেটিং ব্লেন্ডেড এ্যডুকেশন ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শির্ষক এই সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান।
সভার শুরুতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক এডুকেশন, স্কিল অ্যান্ড লার্নিং বিভাগের লিড তানিয়া মিলবার্গ এবং এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।
এসময় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্ল্যান্ডেড শিক্ষা উপযোগী করে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কী কী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন প্যানেল আলোচনায় নিজেদের বক্তব্য তা তুলে ধরেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ কামাল হোসেন, মাধ্যমিক ও বিভাগের সচিব সোলেমান খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ সামসুল আরেফিন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর এডুকেশন, স্কিল অ্যান্ড লার্নিং বিভাগের পিড তানিয়া মিলবার্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমী অমাৰ জুনাইদ আহমেদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এবং শিক্ষাবিদ রুবানা হক।
এছাড়াও এসময় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) নাসরীন আফরোজ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ, এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালন কর্মকর্তা প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজম এবং ইডুকেশন ফোরডটজিরো বিভাগের বিশেষজ্ঞ ওস্তাপ লাতসিশিনসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল ব্লেন্ডেড মাস্টার প্ল্যান (২০২২-২০৩১) তুলে ধরেন এবং সেখানে বাংলাদেশে একটি এডুকেশন এক্সিলারেটর গঠনের কথা ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইসিটি বিভাগ এবং বিভিন্ন বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি এক্সিলারেটর গঠন করা হয়। এডুকেশন এক্সিলারেটর এর চারজন কো-চেয়ার হলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা . দীপু মনি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এনজিও প্রতিনিধি হিসেবে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এবং ব্যবসায় খাতের প্রতিনিধি মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপার্সন রুবানা হক।







