নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি আইপিভি ৬ প্রয়োগে তাগিদ দিলেন মন্ত্রী

৯ মে, ২০২৩ ১১:৩৭  

স্যানগ৩৯ ‍ও বিডিনগ ১৬ সম্মেলন শুরু

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আবহে ষষ্ঠবারের মতো ঢাকার প্যানপ্যাসিফিস সোনারগাঁওয়ে শুরু হলো সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপের সম্মেলন- স্যানোগ ৩৯ ও বিডিনগ এর ১৬তম সম্মেলন। সম্মেলনে অ্যাপ্রিকট চেয়ার ড. ফিলিপস স্মিথ- এর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন স্যানগ চেয়ার গৌরব রাজ উপাধ্যায়।  এসময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বিশ্বে ডিজিটালি শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

মঙ্গলবার সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে দেশে কর্মরত নেটওয়ার্কিং অক্ষমতা-কে সক্ষমতায় রূপান্তরিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিজিটাল এইজ ডিসি’র হেড অব ইন্টারকানেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন রাফেল হো।  

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেস স্যানোগ সভাপতি রুপেশ শ্রেষ্ঠা, বিডিনগ সভাপতি রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ ও আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফ জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদুর প্রসারী ভিশন ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণে প্রথাগত সেবা ডিজিটাল সেবায় রূপান্তরিত হচ্ছে। এবারের ঈদে ট্রেনের টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। ভূমি ব্যাবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর হয়েছে। সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই রূপন্তর সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে জীবনের রসদ। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাতেও আমাদের মনোযোগী হতে হবে। এ জন্য একইসঙ্গে আইপিভি ৪ ও আইপিভি ৬ অ্যানাবল রাউটার আমদানিতে বাধ্যাবাধকতা আরোপ করেছে বিটিআরসি।  

মন্ত্রী আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে ঠাট্টা করলেও দেশের মানুষ এখন স্মার্ট বাংলাদেশ এর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। এই ধরণের সম্মেলন আমাদের প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে অবদান রাখবে। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বশেষ প্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়নে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।   

 অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের ৪জন সহ ১১জন নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীকে সম্মেলনে দেয়া হয় ফেলোশিপ। সম্মেলনের অংশ হিসেবে আগামী চার দিন হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে চলবে নেটওার্ক প্রকৌশলীদের কর্মশালা। দক্ষিণ এশিয়ার ৬টি দেশের ৩০০ প্রকৌশলীর অংশ নিচ্ছে এতে।  

বিটিআরসি শ্যামসুন্দর সিকদার বললেন,পাঁচ দিনের এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা দ্বিগুণ করবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের অবদান তুলে ধরে এপিনিক মহাসচিব পল উইলসন তার বক্তব্যে আইপিভি৬ বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আইপিভি৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রেনিংসহ অন্যান্য সকল ধরনের কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশ সার্কভূক্ত দেশের আইপিভি৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে মাত্র ৫ % শতাংশ। যেখানে অন্যান্য দেশ এগিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

বক্তব্যে পল এপনিকের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ‍এপনিকের ইসি মেম্বার সুমন আহমেদ সাবিরের কথা উল্লেখ করেন। এসময় তিনি দেশের ৪টয়ার ডেটা সেন্টারের কথা উল্লেখ করে ৫টায়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বাবুল আলম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইবিপিসি সমন্বয়ক আব্দুর রহিম খান।

স্বাগত বক্তব্যে আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, একটি শক্তিশালী এবং নিরাপদ ইন্টারনেট পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রসারে স্যানোগ ৩৯ একটি একটি তথ্যপূর্ণ ইভেন্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সেশনে অংশ নেয়া দেশ ও বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা স্যানোগ৩৯ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে নিজ নিজ দেশে প্রয়োগের মাধ্যমে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি টেকসই ইন্টারনেট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কারিগরি সেশসনে হারিকেন ইলেকট্রিক এর অনুরাগ ভাটিয়া ওপেন সোর্স সেলফ হোস্টেড ভিপিএন দিয়ে আইপিভি ৬ ডেপ্লয়মেন্টের কৌশল উপস্থাপন করেন। এরপর ফাইবার অ্যাট হোম এর হাসানুজ্জামান আশিক টিআইজি’র মাধ্যমে টেলিমেট্রি ভিজ্যুয়ালাইজের ধারণা ও প্রয়োগ বিষয়ে আলোকপাত করে। এছাড়াও জ্যাবিক্স এবং গ্র্যাফানার মাধ্যমে মাইক্রোটক পপ ইন্টারফেস নিয়ে আলোচনা করেন এডিএন টেলিকম এর আবু সুফিয়ান। এই পর্বে সবার শেষে প্রক্সি এজেন্ট ফাংশন আইএক্সপি নেটওয়ার্কের ইনসাইট চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন ডিই-সিক্স ফ্রাঙ্কফুটের জোনাথান মাতাওসেক।