‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এ জুবায়ের রহমান চৌধুরী; এআই নীতিমালার তাগিদ

এআই দিয়ে আদালতের রায় লেখা অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

  • আদালতের রায় লেখায় বিচারকের নিজস্ব বিবেক ও বিচারবুদ্ধি অপরিহার্য, যা এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়
  • যাচাই-বাছাই ছাড়া এআই নির্ভরতায় বিচারিক ভুলের ঝুঁকি তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের অস্তিত্বহীন নজিরের উদাহরণ
  • মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর এআই গভর্নেন্স আইনের আহ্বান

এআই দিয়ে আদালতের রায় লেখা অনুচিত: প্রধান বিচারপতি
২৯ আগষ্ট, ২০২৬ ১৩:৫২  

বিচারিক রায়ে তথ্যের বিশ্লেষণ, প্রযোজ্য আইন এবং বিচারকের নিজস্ব বিবেক ও নৈতিক চিন্তাশক্তি অপরিহার্য হওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আদালতের রায় লেখা একেবারেই অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ২৯ আগস্ট, ২০২৬ শনিবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, "একটি নিরপেক্ষ রায় মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—মামলার প্রকৃত ঘটনা (ফ্যাক্ট), সংশ্লিষ্ট আইন ও ধারা, এবং তথ্য-আইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিচারকের নিজস্ব বিবেক। মানুষের এই সহজাত বিবেক ও নৈতিক বোধ কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। মানুষ যদি নিজের চিন্তাশক্তি প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দেয়, তবে তার নিজস্ব বিচারিক সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে পড়বে।"

এআই ব্যবহারের প্রকৌশলগত ও আইনগত ঝুঁকি বোঝাতে গিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি আদালতের উদাহরণ দেন। সেখানে এআই দিয়ে প্রস্তুতকৃত একটি রায়ে এমন একটি পূর্ববর্তী নজির (কেস রেফারেন্স) যুক্ত করা হয়েছিল, গবেষণায় দেখা যায় বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ফলে সংশ্লিষ্ট আদালতকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক সম্ভাবনা বিশাল হলেও যাচাই-বাছাই ছাড়া এর ডেটার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এআই ব্যবহারের পরিধি নির্ধারণে একটি কার্যকর জাতীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।
//ডিবিটেক/ ডিআইপি/এসএমই//