দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের রাজত্ব

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের রাজত্ব
২৫ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:১১  

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল থেকে জুন) স্মার্টফোন বিক্রিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। 

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলে স্মার্টফোন বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। তবে এই মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র স্যামসাংই তাদের শিপমেন্ট বা বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। 

বাজার শেয়ার ও শীর্ষ ব্র্যান্ড
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট স্মার্টফোন বাজারের ২৪ শতাংশ এককভাবে দখল করে রেখে শীর্ষ স্থানে রয়েছে স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটির বাৎসরিক শিপমেন্ট বেড়েছে ৬ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ শতাংশ। 

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা শাওমির দখলে রয়েছে ১৮ শতাংশ বাজার শেয়ার, তবে তাদের বিক্রি ছিল আগের বছরের মতোই প্রায় স্থবির। ১৭ শতাংশ বাজার শেয়ার নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে ওপ্পো, যাদের বিক্রি আগের বছরের ২২ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইনফিনিক্স ও টেকনোর মূল প্রতিষ্ঠান ট্র্যানশন ১৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ে চতুর্থ এবং মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ৯ শতাংশ শেয়ার নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। 

সস্তা ফোনের চাহিদায় পতন ও প্রিমিয়ামের জয়জয়কার
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ১৫০ ডলারের কম দামি বা সস্তার স্মার্টফোনের বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। 

এছাড়া ২৫০ থেকে ৪৯৯ ডলার দামের মাঝারি স্মার্টফোনের বাজারও কমেছে ১১ শতাংশ। এর মূল কারণ হলো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামি ফোনে লাভ করতে না পেরে সেগুলোর সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। 

তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ৫০০ থেকে ৬৯৯ ডলার মূল্যের প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বিক্রি রেকর্ড ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এর পাশাপাশি ৭০০ ডলারের ওপরের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর বিক্রিও ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

পূর্বাভাস
চলতি বছরের প্রথমার্ধের মতো বছরের দ্বিতীয়ভাগেও (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) স্মার্টফোনের বাজারে এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। 

বৈশ্বিক বাজারে মেমরি চিপের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো দাম কমানোর সুযোগ পাবে না। একই সাথে সাধারণ ক্রেতারাও নতুন ফোন কেনার ক্ষেত্রে হিসাবি আচরণ করছেন। ফলে বছরের বাকি সময়েও সামগ্রিক স্মার্টফোন বিক্রিতে আরও কিছুটা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: জিএসএম এরিনা