আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট পরিকল্পিত হ্যাংকিংয়ের প্রমাণ দিলো জামায়াত

সরকারি মেইল ব্যবহার করে অফিসিয়াল পেইজগুলো আক্রমণ চালানোর দাবি জামায়েতের

সরকারি মেইল ব্যবহার করে অফিসিয়াল পেইজগুলো আক্রমণ চালানোর দাবি জামায়েতের
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৭  

জামায়াতের আমিরের টুইটার হ্যাকড করে দেয়া ‘ভাইরাল স্ক্রিনশটটি’ ৪টা ৩৭ মিনিটে প্রকাশিত পোস্টটির এক মিনিটের মাথায় ধারণ করা। ক্যাপচার করার ৫-৭ ঘণ্টা পর এটি প্রচার করা হয়। অথচ এর আধাঘণ্টার মধ্যে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে বিবৃতি দিয়েছে দলটি। হ্যাকিং এর বিভিন্ন বিষয়ের স্ক্রিন শট দিয়ে হ্যাকারদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরলেন জামায়েতের নির্বাচনে সাইবার সুরক্ষা দেখভাল দলের সদস্য প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান।  

তিনি দেখালেন, সরকারি মেইল ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামির অফিসিয়াল পেজগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, ইচ্ছকৃত ভাবে বিভিন্ন মিস ইনফরমেশন ও ডিস ইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। ফ্যাক্টচেকিংয়ে জমি বিরোধে বিএনপি নেতার মৃত্যু হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হলেও একই সময়ে একই ছবি ব্যবহার করে ও কোনো নিউজ লিংক ছাড়া প্রতাড়নামূলক মিথ্য তথ্য ছড়ানো হয়। কোনো রকম ভেরিফাই ছাড়াই ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অপপ্রচার ও কূটকৌশলে তারা আমাদের ডিবাং কাজে ব্যস্ত রেখেছে। নারীদের ভোট থেকে বিরত রাখতে বোরখা, নেকাব নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।  

মাহমুদুর রহমান বলেন, গত এক মাসে বহুবার সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামি। একটি সরকারি মেইল ব্যবহার করে, স্যাবোটাজ করে জামায়েতের অফিসিয়াল মেইলে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসে গত ১০ জানুয়ারি একটি মেইল পাঠায়। রাষ্ট্রপতির অফিসের অ্যাসিস্টেন্ট প্রোগ্রামার মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম এর নামে একই মেইল থেকে কেইস স্ট্যাডি ইলেকশন নামে একটি অ্যাকসেস ফাইল পাঠানো হয়েছিল। দলের আমিরের অ্যাকউন্ট অবিশ্বস্ত ডিভাইস থেকে খোলার চেষ্টা করলে তা রুখে দেয়া হয়। গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের দেলোওয়া হোসেনের অ্যাকাউন্টেও হামলা করা হয়। কেস স্ট্যাডি বিজেআই-ইলেকশন থেকে জরুরি উল্লেখ করে ফিশিং মেইল পাঠিয়ে ভাইরাস পাঠানো হয়েছে।    

১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলমান রাজনৈতিক নানা ইস্যূতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বচান পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামির সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ৩১ জানুয়ারি ৪টা ৩৭ মিনিটে আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের খুবই আপত্তিকর একটি পোস্ট করা হয় যা জামাতের চিন্ত-চেতনা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ ওই পোস্টের দুই ঘণ্টা আগে নারীদের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে জামায়াত আমির টুইট করেছিলেন। ফলে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি গোচরে আসতেই ৫টা ৯মিনিটে পাসওয়ার্ড বদল করে মেইল রিকভারের চেষ্টা করা হয়। নতুন সেশন জেনারেট হলে এর ১৩ মিনিট পর ৫টা ২২ মিনিটে ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ নিয়ে রিজয়েন্ডার দেয়া হয়। বাংলায় প্রকাশিত একই টুইট ৪টা ৫৩ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকেও প্রকাশ করা হয়। ভোর রাত সাড়ে তিনটায় থানায় জিডি করা হয়েছে।

জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্টটি সুপরিকল্পিতভাবে হ্যাক করা হয়েছে উল্লেখ করে এটিকে রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে দেখছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। দায় সারতে একদল লোক কর্মসূচি দিয়েছিল, আমরা মনে করছি তাদের সাইবার টিম এসব করছে। এ বিষয়ে রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এই ঘৃণিত কাজের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেবে জামায়াতে ইসলামী।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এই চক্রান্ত জামায়াত ইসলামীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র। একদল লোক জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন চক্রান্ত করছে। আর এই বিষয়ে ইসিকেও জানানো হবে।’

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যারা অপতৎপরতা চালাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে, একটি দল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এই ঘৃণিত কাজ করছে; এগুলো করে জনগণের মনে ঠাঁই পাওয়া যাবে না।’

ডিবিটেক/এফবিএল/ইকে