নিজের সুরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রয়োজনেই এনইআইআর

নিজের সুরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রয়োজনেই এনইআইআর
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৬  

দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য সাইবার ক্রাইম ঠেকানো, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ক্রমবর্ধমান শিল্পের প্রয়োজনে দেশে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়ন হলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বাংলাদেশে ডিজিটাল ডিভাইস খাতের নীতিগত চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা নিয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬।

এক্সপোর অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ‘প্রসপ্যাক্ট অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ইমপ্লিমেন্টিং ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সহযোগিতায় আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. নাসিম পারভেজ।

আলোচনায় অংশ নেন আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আজিজুল হক, গ্রামীণফোনের রেগুলেটরি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ইমতিয়াজ শফিক, বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক, এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন টিপু, এবং সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোবাশ্বের হোসেন।

সেমিনারে বক্তারা এনইআইআর ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ, গ্রাহক সচেতনতা, নীতিগত প্রস্তুতি এবং সাইবার নিরাপত্তার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, কার্যকর এনইআইআর বাস্তবায়নে সরকার, অপারেটর, আমদানিকারক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় অপরিহার্য।

মূল প্রবন্ধে নাসিম পারভেজ দেশে এখন কেন এনইআইআর দরকার তা নিয়ে আলোচনা করেন। জানান, দেশে এখন ৪০ শতাংশ ডিভাইস অবৈধ। এর মাধ্যমে সরকার প্রতিবছর ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। রাজস্বের পাশাপাশি পুরাতন হ্যান্ডসেট মানুষের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করছে।

তবে এনইআইআর বাস্তবায়নে সত্যের চেয়ে মিথ বেশি জোরালো হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করার আহ্বান জানান নাসিম পারভেজ।

তাই তিনি সচেতনতা তৈরিসহ কয়েকটি সুপারিশও করেন। বলেন, হ্যান্ডসেটের দাম বাড়বে বলে যে প্রচার করা হচ্ছে সেটিও সেই মিথের অংশ।  

আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আমিনুল হক বলেন, দেশে এনইআইআর চালু হোক এটা যেমন চায় বিডা, এনবিআর, বিটিআরসি, তেমনি চায় মোবাইল ইন্ডাস্ট্রিও। এনবিআর চায় যেন বছরে ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সেটা হারাতে না হয়। সবগুলো মন্ত্রণলায় চায়, কারণ এখানে নানান পক্ষ জড়িত থাকে। বিডা চায়, কেননা অসংখ্য বিদেশি কোম্পানি দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে, সেটার সুরক্ষা দিতে চায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো চায় জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য।

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, সামনের দিনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে সাইবার ক্রাইম। এনইআইআর  চালু হলে এই চ্যালেঞ্জ কমে আসবে। মোবাইলফোনের মাধ্যমে করা ক্রাইম সহজে শনাক্ত করা যাবে।

গ্রামীণফোনের রেগুলেটরি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ইমতিয়াজ শফিক বলেন, এনইআইআরের টেলিকম ইকোসিস্টেম পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে হ্যান্ডসেটের ওপর। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই আমরা মনে করে এনইআইআর সিস্টেম চালু হওয়া দরকার। একবার যদি এটি চালু হয় তাহলে দেশে স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন আরও বাড়বে।

এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন টিপু বলেন, আমাদের শিল্পের সুরক্ষার জন্য হলেও এনইআইআর প্রয়োজন। দেশে প্রায় ১৮টি কোম্পানি কারখানা দিয়ে মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে। ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি কারখানায় কাজ করেন, ডিস্ট্রিবিউটির থেকে অন্য পরোক্ষ আরও ৫০ হাজার হলেও দেশে কত কর্মসংস্থান সেটাও দেখতে হবে। আমরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি বছরে ৩০০০ কোটি টাকা। তারপরও আমরা মাত্র ৫০ শতাংশ বাজার ধরে রাখতে পেরেছি। অন্য ৫০ শতাংশ পুরোটাই অবৈধ ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছে যা থেকে সরকার এক টাকাও রাজস্ব করতে পারছে না।

সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোবাশ্বের হোসেন বলেন, বাংলাদেশে অহরহ মোবাইল ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভিক্টিম হচ্ছে। কিন্তু আমরা সবগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমরা সিটিটিসিতে এজন্য একটা ল্যাব রয়েছে। আমরা মনে করি এনইআইআর চালু হলে এটা সহজে শনাক্ত করতে পারবো।

ডিবিটেক/ইএইচ/ইকে