ডকাসু-তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক

এক পদে ডজন প্রার্থী, সরে দাঁড়ালেন ১ জন

এক পদে ডজন প্রার্থী, সরে দাঁড়ালেন ১ জন
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:২৩  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ ইবনে হানিফ আরিয়ান। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে একই পদের প্রার্থী তার বিভাগের বন্ধু আহাদ বিন ইসলাম শোয়েবকে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে ভোট থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আগে এই পদে প্রার্থী হিসেবে ১ নারীসহ রয়েছেন ১২ জন প্রার্থী। প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জনই ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী। এই হলের আবাসিক ছাত্র আরিয়ান ছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন তারই বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদ বিন ইসলাম শোয়েব, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ফাতিন ইশরাক, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের মো: রিয়াজ মৃধা এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের মোঃ ইকবাল হায়দার। ইকবাল শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। 

এছাড়াও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্রদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো: এহসানুল ইসলাম ও তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মোঃ শাকিব খান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে এহসান ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী। 

অমর একুশে হলের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারহান লাবীব এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ মমিনুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও বিজয় ৭১ হলের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্ট্যাডিজ বিভাগের মোঃ সজিব হোসেন এবং আরবি বিভাগের আহমাদ হাসান তালহাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। 

আর একমাত্র নারী প্রার্থী জুরাইয়া আক্তার কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রী। তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সচেতন শিক্ষার্থী প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন।   

এদের মধ্য থেকে ৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে আরিয়ান লেখেন, ‘আমি আজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছি, ক্লাবের মাধ্যমে আমার একটা সুযোগ আছে কিছু দিয়ে যাওয়ার শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি আমার অরাজনৈতিক টার্মটাও এখানে বেশি রেলিভেন্ট ডাকসু থেকে। আর রাজনীতিতে চলমান ভাঙা-গড়ার দ্বন্দ্বে আমি একদম আর সামনে এগোতে চাচ্ছি না। ক্লাবের সবার আসলে আমার প্রতি একটা তীব্র আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে, তাদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’ 

পোস্টে ‘আমার শরীরও ভালো নেই, পাঁচদিন ধরে এক প্রকার বেডে পড়ে আছি, কোনো প্রচারণা সম্ভব হচ্ছে না, অনেক পিছিয়ে গেছি। শারীরিক ও মানসিক মনোবল নষ্ট হয়ে গেছে!’ উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি মাস্টার্সের নিয়মিত ছাত্র, ক্লাস পরীক্ষার চাপও ভালোই, সাথে রিসার্চার হিসেবে কাজ করছি একটা কম্পানিতে! নিজের একটা ছোটখাটো স্টার্টআপ শুরু করেছি! সব মিলিয়ে আমি স্বাভাবিকভাবেই খুব ব্যস্ত! আমার সামনে কয়েকটা রিসার্চ পেপার সাবমিশনের ডেডলাইনও আছে! এর বাহিরে আমি খুব গভীরভাবে ভেবে দেখলাম আমি কতটুকু কী অবদান রাখতে পারব নির্বাচিত হয়ে এলেও।’

আরিয়ান আরো লিখেছেন, ‘এখন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই, আনঅফিশিয়ালি ব্যক্তিগত কারণ ও ক্যারিয়ার ফোকাসের কথা মাথায় রেখে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি! আমি আমার ডিপার্টমেন্টের বন্ধু শোয়েবকে নৈতিক সমর্থন দিচ্ছি। সবাই আমার ও তার জন্য মন ভরে দোয়া করবেন!’

এর আগে এই প্যানেল থেকে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ান জিএস পদের প্রার্থী মাহিন সরকার।