আড়াই ঘণ্টা ব্লাকআউটে স্টারলিংক!
নাম ‘তারকা’ (স্টার) হলেও ধ্রুব তারা হতে পারেনি কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। উল্কাপাতের মতো যেনো খসে পড়েছিলো সেবাটি। একটি অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যারের সমস্যার জেরে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আড়াই ঘণ্টার জন্য ব্লাকআউট হয়ে গিয়েছিলেন এই সেবা গ্রহীতারা।
বাংলাদেশ থেকে এই সংযোগ ব্যবহারকারী আব্দুল মোমেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৫ জুলাই রাত ১টা ৩১ মিনিটে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘৮-১০ মিনিট আগে হঠাৎ করে স্টারলিং ইন্টারনেট ডাউন হয়ে গিয়েছে। এখন তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখতে পাচ্ছি Globally সমস্যা হয়েছে’।
এই পোস্টে মন্তব্যে মিঠা হাওলাদার লিখেছেন,
স্টারলিংক নেটওয়ার্ক ত্রুটির কারণে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বিশ্বব্যাপী এর হাজার হাজার ব্যবহারকারী। কোলোরাডো থেকে জার্মানি, জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
এক্স-এ একজন গ্রাহক জানান যে তাদের ফোনে ৫জি থাকায় তারা ভাগ্যবান। তিনি আরও বলেন, "স্টারলিংকের একমাত্র দুর্বলতা হল এটি বন্ধ হয়ে গেলে আপনার একমাত্র বিকল্প আপনার ফোন নেটওয়ার্ক।"
এমন ভর্ৎসনায় সংযোগহীন হয়ে পড়া ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন স্টারলিংক প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
কোম্পানির অফিসিয়াল এক্স (X) অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “নেটওয়ার্কের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে এবং স্টারলিংক পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আমরা সংযোগের গুরুত্ব বুঝি এবং এই বিভ্রাটের জন্য দুঃখিত।”
মাস্ক এই বার্তাটি পুনরায় পোস্ট করেছেন। এর আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভ্রাটের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং ব্যবহারকারীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে এটি সাময়িক। প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার মাস্ক আরও লিখেছেন, "স্পেসএক্স (SpaceX) নিশ্চিত করবে যাতে ভবিষ্যতে এমনটা আর না ঘটে।"
২৪ জুলাই বিকাল ৪টার আগে ডাউন ডিটেক্টর ওয়েবসাইটে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশ ব্যবহারকারী "পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন" হওয়ার কথা জানান।
স্টারলিংক হল একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী যা একটি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী হিসাবে কাজ করে। এটি আমেরিকান মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স-এর অংশ, যা বিতর্কিত বিলিয়নিয়ার মাস্ক প্রতিষ্ঠা করেন। এই নেটওয়ার্ক প্রায় ১৩০টি দেশ এবং অঞ্চলে পরিষেবা প্রদান করে এবং বিশ্বব্যাপী মোবাইল ব্রডব্যান্ড সরবরাহ করাই এর লক্ষ্য।
তবে সেই সেবা দিতে গিয়ে হোচট খেয়ে স্টারলিংক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকোলস এক্স বার্তায় লিখেন, বিঘ্ন ঘটার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। ব্যবহারকারীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সেবার ব্যর্থতায় এ বিভ্রাট ঘটে। মূল কারণ খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় পরিসরের এই বিভ্রাট স্টারলিংকের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা। এটি সফটওয়্যার ত্রুটি, ব্যর্থ হওয়া আপডেট, এমনকি সাইবার আক্রমণের ফলও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



