সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে রাষ্ট্রীয় আড়িপাতা বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে রাষ্ট্রীয় আড়িপাতা বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি
৫ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩২  
৫ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৪৩  

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে যেসব পরিবর্তন দরকার তা পুরোপুরি হয়নি মনে করছেন রাজনীতিকরা। একইসঙ্গে নতুন আইনে রাষ্ট্রীয় আড়িপাতা বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে নাগরিক সমাজ।  পাশাপাশি নতুন অধ্যাদেশেও প্রায় সকল কর্তৃত্ব সরকারের হাতে থাকায় এর অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নাগরিক ঐক্য। তবে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিথ্যা অভিযোগের হয়রানির শিকার ব্যক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালাস পাবার সুযোগ; অনলাইন জুয়া থেকে সাইবার স্পেসে আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নারী ও শিশুদের হয়রানির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থার জন্য সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-কে স্বাগত জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে অধ্যাদেশটি বাকস্বাধনীতা ও সাইবার নিরাপত্তা রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে বিতর্কিত ধারা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। 

৫ জুলাই (শনিবার) সকালে সেগুনবাগিচায় ডিআরইউতে নাগরিক ঐক্যের এক আলোচনা সভায় মূলপ্রবন্ধে এই তাগিদ দেন নাগরিক ঐক্য’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। 

সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নতুন অধ্যাদেশে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতর, এটা বাতিল করতে হবে।’ 

এছাড়া মব-জাস্টিসসহ নানা ইস্যু নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন মান্না। সেইসঙ্গে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০১৫ বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।মান্না বলেন, ‘সিইসি নূরুল হুদা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। পারলে বিচার করে ফাঁসি দেন। তবে মব ভায়োলেন্স সহ্য করার মতো না। মব ভায়োলেন্স সারাদেশে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে।’

বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে সভায় প্রযুক্তিবিদ ফাহিম মাশরুর বলেছেন, গত ১৫ বছর রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিজেই ডিজিটাল ভিভাইসে অনধিকার প্রবেশ করে আইন ভঙ্গ করেছে। NTMC র মত প্রতিষ্ঠান শত কোটি টাকা খরচ করে পেগাসাসের মত আড়িপাতা সফটওয়ার কিনেছে। কিন্ত আমরা এখনো জানি না কি ধরনের সফটওয়ার এখনো ব্যবহার হয়। এই ব্যাপারে স্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে রাষ্ট্রীয় আড়িপাতা নিয়ে কোনো কথা নেই।

তিনি আরো বলেন, সরকার এই অধ্যাদেশ করার আগে অনেক কিছুই আমলে নিয়েছে এবং এটা আগের চেয়ে উন্নত। তবে বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে অপরাধ করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিধানের সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। আগে দেখা গেছে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং এনটিএমসির মতো প্রতিষ্ঠান টেলিযোগাযোগ–ব্যবস্থায় প্রবেশ করে মানুষের ফোনকল ফাঁস করেছে। তারাই গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান  বলেন, ‘এখানে কতগুলো আইনের বিষয়ে বলা হয়েছে, যেগুলো অস্পষ্ট, বিধানে অস্পষ্টতা আছে। আর এ অস্পষ্টতার সুযোগে যারা এ আইন প্রয়োগ করেন তারা মানুষের ওপর, জনগণের ওপর নিপিড়ন চালান। যাতে তাদের ওপর কেউ নিপীড়ন না করে, সেজন্য নিরপেক্ষ মানুষ কিংবা তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন মানুষ এসব কমিশনে থাকা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই অধ্যাদেশে অনেক বিতর্কিত ধারা বাদ দিলেও ঘুরেফিরে অন্য জায়গায় সেটা রাখা হয়েছে, যেটা অযৌক্তিক। , আমার মতে, প্রতিটি আইনে একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত—যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আইন প্রয়োগে ভুল করেন বা অন্যায়ভাবে আইন লঙ্ঘন করে জনগণকে নিপীড়ন করেন, তাহলে তাদের জন্য শাস্তির বিধান থাকতে হবে।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে যেসব পরিবর্তন দরকার তা পুরোপুরি হয়নি’ এসময় আইন প্রয়োগকারী কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল বা নির্দোষ কাউকে হয়রানি করলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি। 

তিনি বলেন, প্রতিটি আইনে এমন কঠোর বিধান থাকতে হবে, যাতে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে বা আইন লঙ্ঘন করলে, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

দেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতা নিয়েও সমালোচনা করে নজরুল বলেন, ২০০৬ সালে শ্রম আইন ও শ্রম আদালত আইন একীভূত করার আগে দেশে অনেক শ্রম আইন ছিল। ‘আপনি যদি আইনটি পড়েন, তাহলে মনে হবে এটি একটি চমৎকার আইন। কিন্তু আপনি যদি এর বাস্তবায়ন দেখেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক।’

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রধান সমন্বয়ক আকরাম হুসাইন প্রমুখ।