সংবাদপত্রের ওয়েবে ৪০৪ বার্তা’র ব্যাখ্যা দিলো পিআইবি
ভুয়া সংবাদ প্রত্যাহারসংক্রান্ত গবেষণার বরাত “বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অপতথ্যের গতি-প্রকৃতি” বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা’ দিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)। সংস্থাটি রবিবার এক ব্যাখ্যায় বলেছে, সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটের ৪০৪ বার্তা (404 Page Not Found) সংবলিত লিংক বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে পিআইবির ব্যাখ্যায় বলা হয়, স্লাইডে উপস্থাপিত সংখ্যা প্রত্যাহারকৃত সংবাদ চিহ্নিত করে, যেগুলোর মধ্যে অপতথ্যও রয়েছে। সব ডেটা অপতথ্য না–ও হতে পারে, কিন্তু সব কটিই প্রত্যাহারকৃত সংবাদের নমুনা পরিসংখ্যান। বক্তব্যে এই ব্যাপারটি উল্লেখ করলেও প্রেজেন্টেশনের (উপস্থাপনা) স্লাইডের লেখায় তা উল্লেখ করা হয়নি, ফলে কিছু অস্পষ্টতার অবকাশ রয়ে যায়।
গত ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে মূল প্রবন্ধকারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা বক্তব্য দেন। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপক বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ (ইবিএলআইসিটি) প্রকল্পের পরামর্শক মামুন-অর-রশীদ জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ভুয়া সংবাদের প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বস্তুনিষ্ঠতা নয়, বরং ভাইরাল হওয়ার লোভেই সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে।
ফ্যাক্ট-চেক সাইট থেকে নেয়া ছয় মাসের স্ক্র্যাপ ডেটা, মূলধারার গণমাধ্যমের ৬৯৪টি পৃথক ডেডলিংকসহ ৫টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে প্রাথমিক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংবাদ প্রত্যাহার করতে হয়েছে প্রথম আলোকে। দ্বিতীয় দৈনিক কালবেলা এবং তৃতীয় অবস্থানে দৈনিক ইত্তেফাক। অন্য গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে দৈনিক যুগান্তর, ডেইলি স্টার, ঢাকা পোস্ট, বাংলা ট্রিবিউন, বিডিনিউজ, দৈনিক কালের কণ্ঠ, যমুনা টিভি, বিবিসি বাংলা, চ্যানেল২৪বিডি, সময় নিউজ, জাগো নিউজ২৪, বাংলানিউজ২৪, দৈনিক জনকণ্ঠ, ঢাকা ট্রিবিউন, টিবিএস, দৈনিক দেশ রূপান্তর, দৈনিক ইনকিলাব, আইটিভি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি), সময়ের কণ্ঠস্বর, একাত্তর টিভি, এনটিভি ওয়েব, যায়যায়দিন, আমাদের সময়, সময়ের আলো, বিডি প্রতিদিন।
মামুন-অর-রশীদের উপস্থাপনার একটি অংশে বলা হয়, ছয় মাসে প্রথম আলো সবচেয়ে বেশি—১২১টি ভুয়া সংবাদ প্রত্যাহার করেছে। এর পরে রয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, যুগান্তর ও সমকাল। কিন্তু একই স্লাইডে যে লেখচিত্র উপস্থাপন করা হয়, সেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে কালবেলা, তৃতীয় ইত্তেফাক ও চতুর্থ অবস্থানে যুগান্তরকে দেখানো হয়।
এসময় মামুন অর রশীদ বলেন, এটি আমার নিজস্ব গবেষণা কর্ম, গত জানুয়ারি থেকে চলতি জুন মাস নাগাদ গবেষণায় এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা কর্মটি জার্নালে প্রকাশের জন্য আরো তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।
পিআইবির সেমিনারের পর কয়েকটি গণমাধ্যম ভুয়া সংবাদ প্রত্যাহারের পরিসংখ্যান ধরে খবর প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা হয়। তথ্য যাচাইকারী বা ফ্যাক্ট চেকারদের কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট গবেষণার মেথড বা পদ্ধতিতে গলদ থাকতে পারে বলে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফ্যাক্ট চেকার কদরুদ্দিন শিশির সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, প্রতিবেদনটি পড়ার পর এটা বলতে চাই যে, হয়তো গবেষণাটিতেই খুবই সিরিয়াস লেভেলের ঘাপলা আছে, অথবা ঘাপলা আছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। আমার গত দশ বছরের বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম অবজার্ভ করার অভিজ্ঞতা বলে- এই খবরের ইন্ট্রো তে এবং ভেতরে যে উপসংহার টানা হয়েছে গবেষণার বরাতে তা মারাত্নক কোন ভুলের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
এমন পরিস্থিতিতে গবেষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিজিবাংলাটেকডটনিউজ। গবেষণাটি চলমান উল্লেখ করে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, পত্রিকাগুলোয় যে খবর প্রকাশ করেছে তা কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তাছাড়া প্রথম আলো অনেক নিউজ প্রকাশ করে এবং এটি প্রচারও হয় বেশি। সঙ্গত কারণে তাদের সংবাদ প্রত্যাহারের সংখ্যাটাও তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা গেছে। কিন্তু এটা ফাইনাল নয়। শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করবো। আর বিভ্রান্তির বিষয়ে পিআইবি থেকে বিষয়টি স্পষ্টিকরণ করা হবে।
বিকেলে পিআইবি থেকে দেয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক অপতথ্যের গতি-প্রকৃতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে গত শনিবার একটি চলমান গবেষণায় পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) একটি প্রকল্পের পরামর্শক মামুন-অর-রশীদ। তিনি গবেষণাটি করছেন পিআইবির পক্ষে। তার উপস্থাপনার একটি দিক হলো অনলাইন গণমাধ্যমে প্রত্যাহারকৃত সংবাদ ও অপতথ্যবিষয়ক ডেটার একটা তুলনামূলক চিত্র। কিন্তু এটা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করেছে, যাতে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও শিরোনাম করা হয়েছে’।
পিআইবি-র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে সেদিনের সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ। গত ১৫ বছরে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ক্ষীণ ধারা ছিল উল্লেখ করে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সেদিন বলেছিলেন, অপতথ্যকে শুধু ফ্যাক্টচেক দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এটাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।







