বাজেটে ই-কমার্স 

থাক ভিক্ষে তোর কুকুর সামলা

থাক ভিক্ষে তোর কুকুর সামলা
২৪ জুন, ২০২৫ ০০:১১  
২৪ জুন, ২০২৫ ০০:২০  

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বরাবরের মতো এবারও বাজেট নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার একটা গল্প মনে পড়ে গিয়েছে। আমি জানি না বাজেট নিয়ে যখন কাগজের জন্য গত কয়েকবছর ধরে লিখি তখন কোনো না কোনো মজার গল্প আমার মনে পড়ে। এবারের সেই চিরচেনা গল্প। গল্পটা এবার বরং আমি না লিখি । এ-আই তথা চ্যাট জিপিটিকে বললাম ‘‘থাক ভিক্ষে তোর কুকুর সামলা’’ এই গল্পটা সংক্ষেপে লিখে দাও। তারপর সে লিখেছে-

‘‘একজন গরিব ভিক্ষুক একদিন এক ধনী বাড়ির সামনে গিয়ে ভিক্ষা চাইলো। দরজা খুলে দিল এক লোক, হাতে কুকুরের চেইন। ভিক্ষুক বললো, “বাবা, একটু ভিক্ষে দিন।” ধনী লোকের কুকুরটি তখন তার দিকে তেড়ে আসে। ভিক্ষুক ভয়ে পেছনে সরে দাঁড়ায়।
ধনী ব্যক্তি হেসে বলে, “কুকুরটা ভয় পাস? ভিক্ষা চাস আবার!”
ভিক্ষুক চোখ মেলে বলে, “থাক ভিক্ষে, তোর কুকুর সামলা।”

তার মানে, একজন মানুষ যখন সম্মানের বদলে অপমান ও নিরাপত্তাহীনতা পায়, তখন সে সামান্য দানও গ্রহণ করতে চায় না। সম্মানবোধই তার বড় সম্পদ।

ই-কমার্স ও আইটিইএস
২০১৬ সাল থেকে ই-কমার্সকে আইটি/আইটিইএস এর বাইরে রাখা হয়েছে। এদিকে আবার ২০২৬ সাল পর্যন্ত আইটিআইটিইসে কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে ই-কমার্স খাতের লোকেরা ভেবেছেন তারা ই-কমার্সকে আলাদা খাতে রেখে আরো বেশী সুবিধা আদায় করবেন সেজন্য তখন তারা এটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু করোনাকালীন ই-কমার্স প্রবৃদ্ধি ও এ খাতে ব্যাপক প্রতারণার জোয়ার উঠায় তাদের সে কন্ঠ স্তিমিত হয়ে যায়। গত ক’বছর ধরে তারা কেবল ই-কমার্সকে আগের জায়গায় মানে আইটি-আইটিইস এর অন্তভূক্ত দেখতে চায়। সারা দুনিয়াতেও তাই আছে।

তাদের কথা হলো- বিদ্যমান অর্থ আইন, ২০১৬ (৫৪ - গ) এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৩৩ এর সংশোধন করা হয় যার মাধ্যমে 'ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং' কে  ITES  থেকে বহির্ভুত করা হয়।  এর ফলে 'ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং'  এর আয় করযোগ্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কিন্তু ই-কমার্স যেহেতু ইন্টারনেট নির্ভর বা প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল সেবা হিসেবে  'ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং' কে  ITES -এর  অর্ন্তভূক্ত করার দাবী রয়েছে।  

ঠিক একই কারণে অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসার মতো অফিস ভাড়ার ক্ষেত্রে মুসক অব্যাহতি সম্পর্কিত কোনো সুস্পষ্ট এস আর ও নেই। তারা "অনলাইন পণ্য বিক্রয়" কোম্পানি হিসাবে ভ্যাট নিবন্ধন করা হলে অফিস/বাড়ি ভাডার উপর কোন ভ্যাট প্রযোজ্য না হওয়ার বিধান চায়।
 
১৫% ভ্যাটের যাত্রা
ইতোমধ্যে ফেসবুক ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর পরিহার করার খবর পাওয়া গিয়েছে। আর নতুন খবর হলো ই-কমার্সে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন সবাই আওয়াজ তুলেছেন। এটা যেন ৫% নামিয়ে আনা হয়। এখন এটাকে রহিত করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসআরও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক। তারিখ–১৯ জুন, ২০২১, সেবার কোড এস ০২৮.০০। ই–কমার্স ভিত্তিক ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি চার্জের ন্যূনতম ভ্যাট ১৫ শতাংশ। এটাকেও ৫% শতাংশ করার প্রস্তাবও প্রতিবছর এনবিআরও সংশ্লিষ্ঠদের কাছে দেয়া হয়।
এখন যা ঘটবে আগের মতো আর ITES এ অন্তভূক্তির দাবী পেছনে চলে যাবে। ১৫% এর দাবী সামনে আসবে। এবং এই ১৫% এর দাবী সরকার মেনেও হয়তো নেবে। এনবিআর বলবে দেখেন আপনাদের কথা রেখেছি। আর ব্যবসায়ী নেতারা বলবে আমরা কতনা আন্দোলন করে দাবী আদায় করেছি। মাঝখান দিয়ে বড় বড় সমস্যাগুলো থেকেই যাবে।
এবার কি গল্পের সাথে মিলে? ‘‘থাক ITES তোর ১৫% সামলা’’। আর ট্রেড লাইসেন্সে ক্যাটাগরি হিসেবে ই-কমার্স যুক্ত করার দাবী সেটাও কয়দিনের জন্য ভুলে যেতে হবে যদিও এটা বাজেটের বিষয় নয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেখে ব্যাপারটা। এটা নিয়ে বিলক্ষণ আরেকখান গল্প দিয়ে লেখা লেখার ইচ্ছে রইল।
 

দেশীয় উদ্যোক্তার স্বার্থ বনাম ডিরেক্ট ফরেইন ইনভেস্টমেন্ট

ই-কমার্সের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো দেশীয় উদ্যোক্তার স্বার্থ রক্ষা ও বিদেশী বিনিযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় অংশীদার নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের DFI নীতিকে হেরফের করবে। তাই এটি আসলে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব নয়। অন্তত সরকারের এই সময়ের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

মার্কেটপ্লেস বনাম অনলাইন শপ এর বৈষম্য
অনলাইন খুচরা বিক্রয় সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা বলা হচ্ছে কারণ,  ২০২৩ সালের ২১ মে এনবিআর প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে (এসআরও নং ১৪৩ /আইন ২০২৩ / ২২০ মূসক) দু’টি ভিন্ন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে— (১) অনলাইনে খুচরা বিক্রয় অর্থ: ইলেকট্রনিকস নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সেসব পণ্য ও সেবার ক্রয়–বিক্রয় যা এর আগে কোনো উৎপাদনকারী বা পণ্য সরবরাহকারী বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মূসক পরিশোধপূর্বক কেনা করা হয়েছে এবং অনলাইনে খুচরা বিক্রেতা কর্তৃক ওই ক্রয়কৃত পণ্য মূসক প্রদানপূর্বক সরবরাহ করা হবে। যে ক্ষেত্রে ওই অনলাইন খুচরা বিক্রেতার নিজস্ব কোনো (ভৌত) বিক্রয়কেন্দ্র নেই। 

এখানে ‘‘অনলাইনে খুচরা বিক্রয় ’’ সংক্রান্ত সংজ্ঞায় ২ বার মূসক পরিশোধ এর কথা বলা হয়েছে। যেমন- ‘‘পণ্য ও সেবার ক্রয়–বিক্রয় যা এর আগে কোনো উৎপাদনকারী বা পণ্য সরবরাহকারী বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মূসক পরিশোধপূর্বক ক্রয় করা হয়েছে’’ এবং ‘‘এবং অনলাইনে খুচরা বিক্রেতা কর্তৃক ওই ক্রয়কৃত পণ্য মূসক প্রদানপূর্বক সরবরাহ করা হবে’’। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তথাপি মার্কেটপ্লেস এর সংজ্ঞায় এমনটি যুক্ত নয়। তাই এই শর্তটি সংজ্ঞা থেকে পরিহার করা অধিক যুক্তিযুক্ত।

ন্যূনতম করের বিধান
বিগত কয়েক বছর ধরে ই-মার্স খাত থেকে এই বলে প্রস্তাব করছে যে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য নূন্যতম কর ০.৬% থেক্রে হ্রাস করে ০.১% করার জন্য। কারণ বিদ্যমান বিধানে একজন ব্যক্তি, ফার্ম বা একটি কোম্পানির লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো তার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর হবে-
১.তামাক উৎপাদনকারীর জন্য সর্বোমোট প্রাপ্তির ১%
২. মোবাইল অপারেটরের জন্য সর্বোমোট প্রাপ্তির ২%
৩. তামাক উৎপাদনকারী বা মোবাইল অপারেটর ব্যতীত অন্য কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার সর্বোমোট প্রাপ্তির তিন কোটি টাকার উপরে সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কর হবে প্রাপ্তির-০.২৫%।
৪. এবং অন্য যেকোন ক্ষেত্রে এই হার হবে সর্বমোট প্রাপ্তির ০.৬০%।

এটি একচি বর্ধণশীল ও সম্ভাবনাময় খাত হলেও এতে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান লাভের মূখ দেখেনি। এখানকার মোট লেনদেন দেশের খুচরা বাজারের অতি ক্ষুদ্র অংশ। তাই এই সুবিধা পাওয়া দরকার বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্ঠরা।
এছাড়া আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২(২)(xv) এবং বিধি ১৬। অনুসারে উৎসে করের বিধান রহিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য।

ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানী ও প্রণোদনা
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ফেব্রুয়ারী ০৮, ২০১৮-এ জারিকৃত এফই সার্কুলার নং-০৩ অনুযায়ী সফট্ওয়্যার, আইটিএস (Information Technology Services) খাতের জন্য সেক্টর-স্পেসিফিক নগদ সহায়তা প্রদানের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী সংক্রান্ত সার্কুলার দেয়া হয়। সেসূত্রে রপ্তানি বাণিজ্যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা ই-কমার্স সেক্টরে প্রয়োগের দাবীও উঠেছে কারণ ক্রসবর্ডার ই-কমার্সের মাধ্যমে বিটুসি ফরম্যাটে কিছু বেচাকেনা হয় বৈকি?

পারকুইজিট বাবদ ব্যয় সীমা
আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫(ঘ) অনুসারে ধারা ৩২ এ সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোন কর্মচারীকে প্রদত্ত ১০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোন প্রদান অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে। তাই এই সীমা ১০ লক্ষ করার দাবী রয়েছে। কারণ টাকার যে মান কমেছে তাতে ১০ লাখ টাকা আর বেশী টাকা নেই। যদিও এই দাবী সকল লিমিটেড কোম্পানীর শুধু ই-কমার্সের নয়।

স্থাপনা মালিকের আইটিআর
আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬৪(৩)(৪২) অনুসারে যে কোন সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত বাড়ির ক্ষেত্রে, ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই বাড়িওয়ালার কাছ থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) সংগ্রহ করতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, যার নিকট হতে কর সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই ব্যক্তি যদি অর্থপ্রদানের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের স্বীকৃতির কপি) জমা দিতে না পারেন, তাহলে ভাড়ার উপর উৎসে কর কর্তন/ সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হারের থেকে ৫০% বেশি হবে (৫% থেকে ৭.৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি)।
এছাড়াও, পেমেন্ট প্রাপক যদি পেমেন্টের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) জমা দিতে না পারেন, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৫৫(ণ) অনুযায়ী, মোট ভাড়া সম্পর্কিত খরচগুলো অব্যাহতি দেয়া হবে না এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী ৩০% আয়কর আরোপ করা হবে উক্ত অননুমোদিত খরচের উপর। এটি সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। প্রথমত সরকার এটা সকলের উপর প্রয়োগ করতে পারে না। মাঝখান দিয়ে বড় ও সুনাম রক্ষা করতে চাওয়া কোম্পানীগুলোর জন্য এটা বাড়তি ঝামেলা। এনবিআর নিজেদের  সক্ষমতার ঘাটতি মেটানোর জন্য আরো এমন নানা নিয়ম করে রেখেছে। কিন্তু সবার উপর সমানভাবে প্রয়োগ করতে পারলে এটিও কোনো সমস্যা ছিল না।
 
চাল ডাল নিত্যপণ্যেকে প্রথম তফসিলে অন্তভূক্ত করা
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২–এর ধারা ১২৬ অনুসারে চাল ও ফলমূল প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত। সহজ কথায় এসব পণ্যে মূসক প্রযোজ্য নয়। কিন্তু সব স্তরে এটা প্রয়োগ হচ্ছে না। বিশেষ ই–কমার্সে এটা অন্যান্য পণ্যের অনুরূপ বিবেচনা করা হয় কখনো কখনো। চাল ডাল নিত্যপণ্যের সঙ্গে অন্তত অতি প্রয়োজনীয় ফল ও দেশীয় ফলকে এই সুবিধা দেওয়া জরুরি। তাই প্রস্তাব হলো, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪–এর সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে ১ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সর্বক্ষেত্রে এটা মেনে চলা।
 
জোগানদারের উৎসে উৎসে মূসক কর্তন
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর এস, আর, ও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক এর বিধি ৪ (খ), মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর এস, আর, ও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক এর বিধি ৪ এর উপবিধি খ–এ প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোন পণ্য বা সেবা জোগানদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলে জোগানদার হিসেবে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব হলো—প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো পণ্য বা সেবা জোগানদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলে সেই পণ্য ও সেবা মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত করার বিধান করা উপযোগী। কারণ, প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো পণ্য বা সেবা জোগানদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলে সেই পণ্য ও সেবা মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত করা হলে কোম্পানির ব্যয় হ্রাস পাবে ফলে গ্রাহকদের কাছে সুলভ মূল্যে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। 
 
উৎসে কর কর্তনকারী
বিগত ৫ বছর ধরে ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে উৎসে কর কর্তনকারী থেকে তাঁদের অব্যাহতি দিতে। যেহেতু সকল লিমিটেড কোম্পানির জন্য এটি প্রযোজ্য তাই সে আর হওয়ার নয়। এখন তাঁরা এ সংক্রান্ত নতুন ঝামেলা থেকে মুক্তি চায়। এসআরও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক। ২০২১ সালের ১৯ জুন অনুসারে, সরবরাহ গ্রহীতা উৎসে কর্তন কৃত বা আদায় কৃত মূসক পণ পরিশোধের সাত দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোডে জমা দেবেন।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এই সময় যেন কমপক্ষে চৌদ্দ দিন করা হয়। নানা কারণে এটি সাত দিনে সম্ভব হয় না। এটি খুব ন্যায্য দাবি। যারা রাজস্ব দিতে চান, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটা কঠিন করে ফেলা কোনো কাজের কথা নয়। কেনইবা বাস্তবতার নিরিখে এসব সময় ঠিক হয় না সে বোঝা খুব মুশকিল। 
 
বিজ্ঞাপন ব্যয়ের সীমা
বর্তমান বিধান মতে, আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫ এর  ‘‘ঞ’’ অনুসারে বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে।
 
প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের কমপক্ষে ৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় করা যুক্তিসঙ্গত। কারণ ই-কমার্সের ক্ষেত্রে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার বাস্তবসম্মত নয়।  ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ মুলত বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচারের জন্য অর্থ ব্যয় করে থাকে যা ব্যতীত তারা তাদের ক্রেতার নিকট পণ্য আকৃষ্ট করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের কমপক্ষে ৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় করা যৌক্তিক।
 
আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫ এর ঢ অনুসারে কর্মচারীদের প্রদত্ত অর্থ, বাড়িভাড়া প্রদান ও কাঁচামাল ক্রয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত যেকোন প্রদান ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত অন্যান্য মাধ্যমে প্রদত্ত হইলে অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে।

৫০ হাজার টাকার এই সীমাটি অন্তত ৫ লক্ষ টাকা হওয়া উচিৎ। কারণ এমন কোনো অযৌক্তিক শর্ত থাকা উচিত নয় যাতে কোম্পানীগুলো অনিয়ম ও তথ্য গোপন করতে প্ররোচিত হয়।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, হাল আমলে বাংলাদেশ নিয়ে কয়েকটি মোটা কথা প্রচলিত আছে। একটি হলো এদেশে ১০০ টাকা হালাল ভাবে রোজগার করার জন্য ১০০ রকমের নিয়ম আর বাঁধা সৃষ্টি করা আছে। আর শত কোটি টাকা লুট আর পাচার করার জন্য রয়েছে অবারিত সুযোগ। এই নিয়ম আর সাম্প্রতীক বছরগুলোতে টাকা পাচারের হিড়িক দেখলে কি মনে হয় না। আইনগুলো এমনভাবে করা হয়। যাতে আপনি আইন ভঙ্গ করবেন, তারপর ধরা পড়বেন এবং তারপর তাদেরকে কিছু দিবেন। আপনিও চুপ তারাও চুপ। খাপের খাপ আক্কাছের বাপ।


লেখক : প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ; সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন

দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।