মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন, ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন, ঝুঁকিতে ২ ডেটা সেন্টার
হঠাৎ রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১৪তলা ভবনের চিলেকোঠা থেকে দাও দাও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। আগুন লাগাার কারণ ও তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অফিস চলাকালীন আগুন লাগায় বহু মানুষ আটকে পড়েছে। আগুন লাগার পর ভবনটির ছাদ থেকে অনেককে দড়ি বেয়ে পাশের ভবনের ছাদে নামতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুন লাগার পর আমতলী থেকে গুলশান এক নম্বরমুখী সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাখালী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এদিকে আগুন লাগায় শুরুতেই ওই এলাকা ও পার্শবর্তী কয়েটি এলাকার ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আগুন লাগায় ঝুঁকিতে পড়েছে ওই ভবনে থাকা ২টি ডাটা সেন্টার এবং ২টি আইআইজিসহ বেশ কয়েকটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। একইসঙ্গে পাশে মোবাইল টাওয়ারও শঙ্কায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরে কলড্রপ বেড়ে গেছে। ইন্টারনেটের গতিতে প্রভাব পড়ছে। গ্রামীণফোন গ্রাহকদের বার্তা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেছেন, খাজা টাওয়ারে আগুন লাগার ফলে দেশে প্রায় ৬০ ভাগের বেশি ইন্টারনেট ব্যান্ড উইথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে না সঙ্গে কল ড্রপ বাড়তে পারে।
অপরদিকে এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকারকে (অব.) বলেছেন, রাজধানীর মহাখালীতে বহুতল ভবন খাজা টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মোবাইল অপারেটদের একে অপরের মধ্যে ভয়েস কলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভবনে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইসিএক্স অপারেটরদের সহযোগিতায় মোবাইল অপারেটররা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা অন্যত্র পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে।

সূত্রমতে, এই ভবনে রয়েছে ঢাকা কোলো এবং এনআরবি ডাটাসেন্টার। আরো আছে ২টি আইইজি’র পপ এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আর্থ, রেস, ভার্গো, আইপি কমিউনিকেশনের অফিস। টাওয়ারটিতে থাকা আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) অপারেটরদের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কল ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকেরা নিরবিচ্ছিন্ন কল করার সুবিধা ও ইন্টারেনট সেবা পাচ্ছেন না।
শেষ খবর পর্যন্ত আগুন নেভার চেষ্টা চলছিলো। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানিয়েছেন, মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ১৪ তলা ভবনটির ১৩ তলায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের সাতটি ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে আরও ইউনিট যাচ্ছে। দেড় ঘণ্টাতেও নেভেনি আগুন। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তাদের সহায়তায় যোগ দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।
জানাগেছে, বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর ৫টা ৭মিনিটে প্রথম ইউনিট পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধান শাজাহান সিকদার।







