পৃথিবীর সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক হরফ বাংলা : মোস্তাফা জব্বার

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ২০:৫৩  
বাংলা বর্ণ পৃথিবীর সবচেয়ে টেকসই একটি বৈজ্ঞানিক হরফ। এই অক্ষরগুলো দিয়ে অসমীয় এবং পূর্ব ভারতের অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় ব্যবহৃত হয়। একইভাবে পৃথিবীর কোনো ডিজিটাল যন্ত্রেই বাংলা ভাষা লেখার প্রতিবন্ধকতা নেই। বাংলার সক্ষমতা অনন্য। বাংলা হরফ বিশ্বে অনন্য। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘২১ আমার অহংকার’ ওয়েব আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের রূপকার মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, “বাংলা লিপির বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোগত শক্তির গুণেই রোমান হরফে না লিখে প্রকৃত ভাবে বাংলা অক্ষর দিয়ে বাংলা লেখাটা ইংরেজি লেখার থেকে সহজ এবং শুদ্ধ।” বাংলা ভাষার ব্যবহারিক ও বৈজ্ঞানিক শক্তি ও এর স্বচ্ছন্দ্য প্রবাহমানতার উদাহরণ টেনে তিনি আরো বলেন, “ইংরেজিতে আই লাভ ইউকে লাভ আই ইউ কিংবা ইউ লাভ আই বলা যায় না। কিন্তু বাংলায় আমি তোমাকে ভালোবাসি; তোমাকে আমি ভালোবাসি কিংবা ভালোবাসি আমি তোমাকে বলতে পারি। এভাবেই আমি আমার ভাষা নিয়ে গর্ব করে চলার মতো সক্ষমতা নিয়ে চলি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন উপপাচার্য এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ড্যাফোডিলের ছাত্র থেকে শিক্ষক হওয়া অমিত চক্রবর্তী এবং আবৃত্তি করেন লাবণ্য আক্তার মীম। গান আবৃত্তির ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, স্টিভ জবস ১৯৮৫ সালের জানুয়ারি মাসে ম্যাকিন্টস কম্পিউটারে ফন্ট মেনু যুক্ত করে প্রথম প্রযুক্তিতে অ-রোমানীয় হরফ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করেন। তখন সাইফুদ্দোহা শহীদ নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইফুদ্দোহা শহীদ লন্ডনে বসে ম্যাকিন্টসের জন্য শহীদ লিপি নামে সফটওয়্যার তৈরি করে প্রথম কম্পিউটারে বাংলা ভাষা প্রয়োগের দ্বার উন্মোচন করেন। আর প্রকাশনায় ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনি ৪৫৪টি বাংলা অক্ষরকে ইংরেজি’র ২৬টি বোতামের মধ্যে নিয়ে আসতে একটি‘হসন্ত’ দিয়ে যুক্তাক্ষর বর্ণকে একটি স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, ভাষা নিয়ে আমাদের কিছু ভুল ধারণা হয়েছে। বাংলা বলার সময় যদি প্রয়োজনে কোনো বিদেশী বা ইংরেজি ভাষার শব্দ ব্যবহার করি,তা দোষের নয়। ভাষার ক্ষেত্রে এর হরফ এবং ব্যকরণ সবচেয়ে বড় বিষয়।