দিল্লির আদলে হবে ই-কোর্ট

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৪০  
দেশে মামলার জট কমাতে বিচার ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও বিচার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা এবং ই-কোর্ট তথা ভার্চুয়াল আদালত স্থাপন করা, যাতে করে সহজেই বিচারিক কাজ সম্পন্ন করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বিচার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনেক সুফল পেয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা দেশে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে এখনো ৩৫ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারের অপেক্ষায় থাকা এই বিশাল সংখ্যক মামলা দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য বিচারক সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্প্রতি একনেক’র এক বৈঠকে বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে দেশের বিচার বিভাগকে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রযুক্তির সাহায্যে আরো নিরাপদ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি। যাতে করে অভিযুক্তদের বার বার কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেয়া করতে না হয়। আইনি সেবার উন্নয়নে ভারত বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করে। এতে করে যে কয়েকটি ধাপের কারণে বিচারকাজে বিলম্ব হতো তা কমে এসেছে। এই কয়েকটি ধাপের মধ্যে আছে মামলার শুনানি। এক্ষেত্রে প্রতিবার শুনানির সময় আসামীকে এক শহর কিংবা রাজ্য থেকে অন্য শহর বা রাজ্যে নিয়ে যেতে হয়। এটা অনেক সময় নষ্ট করে এবং ব্যয়বহুলও। এছাড়াও দাগী আসামীদের জেল থেকে আদালতে আনা-নেয়ার ঝুঁকি তো আছেই। এসব কারণে দেরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিচারের অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনায় ছয়টি জেলা আদালত এবং জেলে ভিডিও কনফারেন্স সুবিধা যুক্ত করা হয়। দ্রুত বিচারের জন্য বর্তমানে মহারাষ্ট্রের ২১৭টি আদালত এবং ৩৮টি কারাগারে এই সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে। দেশটির উচ্চ আদালত, জেলা আদালত ও কারাগারগুলোতে সম্পূর্ণ নতুন এই ডিজিটাল সিস্টেম যথাযথভাবে চালু রাখতে লজিটেক ব্র্যান্ডের বিসিসি-৯৫০ এবং লজিটেক সি-৭১০-ই ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশটির বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সরাসরি স্টেটমেন্ট রেকর্ড করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ দরকারি প্রমাণ দ্রুত আপলোড করতে পারছেন। এছাড়াও ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে কার্যকর উপায়ে ভিডিও সংরক্ষণ করা যায়। বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে প্রযুক্তি সংযুক্ত করার ফলে তদন্তকারী, পুলিশ, জেল বিভাগ এবং বিচারকদের কাজের চাপ কমিয়ে দেয়। প্রযুক্তির কারণে সাক্ষীরা তাদের নিজেদের জায়গা থেকেই কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা এবং উদ্বেগ ছাড়াই স্বল্প খরচের মধ্যে নিজেদের কাজটুকু করে ফেলতে পারেন। স্থানীয় আদালত এবং কারাগারের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ শুধু সময় এবং খরচই বাচায় না বরং উঁচু পর্যায়ের কাউকে ভ্রমণ করানোর ক্ষেত্রে যেসব ঝুঁকি থাকে সেগুলোও কমিয়ে দেয়।