চ্যাটজিটির ঘটকালিতে বিয়ে!
চ্যাটজিপিটি’র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়ে ৫০০০ হাজার জনের মধ্য থেকে প্রথমে পছন্দের মানুষকে খুঁজে বের করা, এরপর আলাপচারিতায় প্রণয় এবং সবশেষে তাকে বিয়ে করে নতুন ইতিহাস গড়লে রাশিয়ার এক যুবক। অর্থাৎ, তার জন্য উপযুক্ত সঙ্গী জোগাড় করে দিতে সফল ঘটকালির ভূমিকা পালন করলো চ্যাটজিপিটি এআই!
রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তি’র বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে ভারতের এনডিটিভি। খবরে প্রকাশ, ২৩ বছর বয়সী সফটওয়্যার ডেভেলপার আলেক্সান্দার জাদান পছন্দের মানুষ খুঁজে পেতে এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি অনলাইন ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে সম্ভাব্য বাজে সঙ্গীদের (ব্যাড ম্যাচ) প্রোফাইলগুলো এড়িয়ে চলতে চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য এআই বটগুলোর সাহায্য নিতেন এভাবে, এক বছরে প্রায় পাঁচ হাজার নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাদান। অতঃপর তার ‘আত্মার সঙ্গী’ (সোলমেট) কারিনা ইমরানোভনাকে খুঁজে পায় এআই।
জাদান বলেন, আমি কীভাবে যোগাযোগ করি সে সম্পর্কে চ্যাটজিপিটি’কে তথ্য দিয়েছিলাম। প্রথমে সমস্যা হচ্ছিল। কারণ, প্রোগ্রামটি আমাকে চিনতো না। এটি আজেবাজে কথা লিখতো। কিন্তু পরে আমি সেটিকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম, যে সে আমার মতো করেই মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে।
রুশ যুবক জানান, এআই বট তার জন্য টিন্ডারের ব্যাড ম্যাচগুলো সরিয়ে দিতো, তার হয়ে অল্পস্বল্প কথাও বলতো। এমনকি, সাক্ষাতের তারিখ ঠিক করে দেওয়া এবং প্রস্তাব দিতেও সাহায্য করেছে সেটি। যেসব নারীর সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া উচিত, তাদের বেছে দেওয়ার জন্য বিশেষ কিছু ফিল্টার ইনস্টল করেছিলেন তিনি। কিছুদিন পরেই জাদান বাস্তব জীবনে কারিনা নামে এক মেয়ের সঙ্গে দেখা করেন। পরবর্তীতে, তার সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যেতেও এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছিলেন এ যুবক।
তিনি জানান, মেয়েটিকে কোথায় নিয়ে যেতে হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা এআই বলে দিতো সেই ঘটকালিতে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে কারিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বলে চ্যাটজিপিটি। ততদিনে এ যুগলের সম্পর্ক ‘পাকাপোক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ অবস্থায় চলে এসেছিল বলে জানায় সে।
কিন্তু, কারিনা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি, তার সঙ্গে এআই’র সাহায্য নিয়ে প্রেম করছিলেন জাদান। বিয়ের রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার পরের দিন বিষয়টি হবু স্ত্রীর কাছে খুলে বলেন এ যুবক। জাদান জানান, সত্যটা জানার পর কারিনা রাগ করেননি, বরং শান্তই ছিলেন।
‘অবশ্যই এমন একটি প্রোগ্রাম তৈরি করা সম্ভব যা কাউকে তাদের "আদর্শ সঙ্গী" খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে’ যোগ করেন জাদান। পছন্দের মানুষ বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের ব্যবহার প্রসঙ্গে সে বলেছেন, ‘আপনাকে অর্থনীতি, কিভাবে এবং কোথায় জোট বাধতে হয় তা বুঝতে হবে। কিন্তু এই ধরনের একটি প্রোগ্রাম তৈরির অনেক বৈশিষ্ট্য সহ অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। আমি যা করেছি তা একটি ব্যক্তিগত পণ্য"।







