জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং : তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, জনগণকে নিজেদের পক্ষে আনা এবং তাদের আস্থা অর্জন করাই ছিল তাদের ইলেকশন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। আর তাতে সফল হয়েছেন তারা।
১৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল, সেটা হলো জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা। সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে দেশি–বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জন্য নির্বাচন কতটা কঠিন ছিল এবং জয়ের জন্য কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই কঠিন ছিল। যেকোনো ভালো কাজ, গোল অ্যাচিভ (লক্ষ্য অর্জন) করতে গেলে তো কষ্ট তো হবেই।
সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক খাতের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন। পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় ভারত ও চীনের সংবাদিকদের মধ্যে। এর বাইরে একজন বিদেশি সাংবাদিক তরুণদের বিএনপি কতটা গুরুত্ব দেবে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনব। কিন্তু সমাজে আরও অনেকে রয়েছেন। সবার কথা ভাবতে হবে। আমাদের ইশতেহারেও আমরা সবার কথা বলেছি। সেখান তরুণের কথা আছে, বয়স্কদের কথা আছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা আছে, নারীদের কথা আছে।’
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান। তারেক রহমান বলেন, তারা আরও বেশি ব্যবসা নিয়ে আসবেন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবেন।
বিগত সরকারের আমলে অলিগার্ক তৈরি করে যেভাবে অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে সে বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চান চ্যানেল ২৪–এর সাংবাদিক জহিরুল আলম। জবাবে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি হবে। সবাই সবার যোগ্যতা এবং মেধা ভিত্তিকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ দেওয়া হবে না।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কৌশলকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব, যা কিছু বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেদিকে যাব না।’ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যদি দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক হয়, তখন সিদ্ধান্ত নেব।
ভারতীয় সাংবাদিক অশোক রাজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বিএনপি তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে।
কাতারভিত্তিক আল–জাজিরার একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন সরকার গঠন করার পর বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ কী হবে? জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকীকরণ করেছে। সে জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে ইংরেজিতে বক্তব্য পাঠ করেন তারেক রহমান। তারপর বক্তব্য দেন বাংলা ভাষায়। এরপর তিনি দেশি-বিদেশি অতিথিদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলনসহ যেসব দল অংশ নিয়েছিল, সব দলকে অভিনন্দন এবং সাধুবাদ জানান তিনি। বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে জানিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এ বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার পালা। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।



