নির্বাচনে ইইউ মিশনের রয়েছে বিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট
ইইউ মিশনের একটি বিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান ইভার্স ইয়াবস। দলটির প্রধান পর্যবেক্ষক বলেছেন, ভোটারদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন-ইওএমের পৃথক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অংশীজনেরা সহিংসতামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আন্তরিক।
রাজধানীর গুলশানের রেনসাঁ হোটেলে ১১ জানুয়ারিম দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান তিনি। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপে শুরু হয়েছে। মিশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনিকাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, প্রচারণা এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া নারী, তরুণ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক, নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ মূল্যায়ন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের উপ-প্রধান ইনতা লেসে ও মিশনের প্রেস অফিসার ইবার্হাড লাউয়ে। সংবাদ সম্মেলনে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান বলেন, নির্বাচনের দুই দিন পর পর্যবেক্ষক মিশন একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করবে। প্রায় দুই মাস পর একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে। ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। আওয়ামী লীগ সরকারের তিনটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠায়নি ইউরোপ। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইয়াবসের নেতৃত্বে মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কাজ শুরু করে এবং ধাপে ধাপে বিস্তৃত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন, যাদের দেশের ৬৪টি জেলায় মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক ৯০ জন। যাদের ভোটের ঠিক আগে মোতায়েন করা হবে এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সংসদ ও গণভোট একই দিন হওয়ার বিষয়ে ঝুঁকির দিক নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, একইদিনে দুটো ভোট সাধারণত হয় না। তবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
“গণভোট নয়, আমরা মূলত সংসদীয় নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ করব। কেননা ওই আমাদের ম্যান্ডেটের বাইরে। তবে, যেহেতু দুটো বিষয় পরস্পর সংযুক্ত, নাগরিকরা ঠিকমত জেনে তাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি-না, সেদিকে নজর আমরা দেব। গণভোট যেহেতু অনেক দেশের জন্য একটা ইস্যু এবং সে কারণে এতে বিশেষ মনোযোগ আমরা দিব।”
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন গত ৮ জানুয়ারি ঢাকায় আসে।
ডিবিটেক/এমইউএম/ইকে



