এনইআইআর পদ্ধতিতে গ্রাহকদের তথ্য পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাবে- এমবিসিবি’র দাবি

এনইআইআর পদ্ধতিতে গ্রাহকদের তথ্য পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাবে-  এমবিসিবি’র দাবি
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৫৭  

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নের আড়ালে দেশের মোবাইল শিল্পের অস্থিরতার পেছনে সংগঠিত একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে অভিযোগ করেছে অনিবন্ধিত (অবৈধ) মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) দাবি করেছে, ‘এনইআইআর পদ্ধতিতে গ্রাহকদের তথ্য পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাবে। এছাড়াও একই ব্যক্তির নামে একাধিক ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর নিবন্ধিত হয়ে যাবে, যা ওই ব্যক্তি জানতেও পারবে না। এরইমধ্যে অনেকের নামে একাধিক আইএমইআই নম্বর নিবন্ধিত হয়ে গেছে ’।

১১ জানুয়ারি (রবিবার) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি'র সাগর-রুনি হলে ‘এনইআইআর চালুর কারিগর আওয়ামী দোসরদের মুখোশ উন্মোচন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এমবিসিবির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান সোহেল ও সংগঠনের প্রতিনিধি সদস্য ফয়সাল আজাদ। তবে এমবিসিবির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম এবং সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লাসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতির কথা থাকলেও তারা হুমকিতে রয়েছেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অনুপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অবহিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের প্রাচার সম্পাদক আনিসুল রহমান সোহেল বলেন, “বাংলাদেশে National Equipment Identity Register (NEIR) ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোবাইল শিল্পে যে অস্থিরতা, সহিংসতা ও ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব কাজ করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তথাকথিত ৯ কোম্পানির মোবাইল সিন্ডিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং NEIR ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পুরো মোবাইল শিল্পকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নেপথ্য পরিকল্পনায় যুক্ত। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলায় জহিরুল ইসলাম ১৮ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত। পাশাপাশি দুদকের তদন্ত নথিতে তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ রয়েছে।”

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক আরো বলেন, “এনইআইআর কার্যকর হওয়ার পর কয়েক লক্ষ বৈধ মোবাইল ফোন হঠাৎ নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহক উভয়ই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক গ্রাহকের এনআইডির বিপরীতে অস্বাভাবিক সংখ্যক আইএমইআই নিবন্ধনের অভিযোগও উঠে এসেছে। তাই মোবাইল বিজনেস কমিটি বাংলাদেশ অবিলম্বে এনইআইআর কার্যক্রম স্থগিত করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাই এবং এই সংকটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

আনিসুজ্জামান আরো প্রশ্ন তোলেন, “জহিরুল ইসলামের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। যার তদন্ত স্মারক নং ০০.০১.২৬০০.৭০১.০০৫.২৫। তিনি মোবাইল শিল্পের আড়ালে বিদেশে অর্থপাচার করেছেন। এখন সিন্ডিকেট কাঠামোর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পরে তিনি বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও দলীয়ভাবে প্রত্যাখ্যানও হয়েছেন। আমাদের প্রশ্ন হলো- এমন একজন ফ্যাসিস্টের সহযোগী কীভাবে অর্থের বিনিময়ে এনইআইআর পদ্ধতি আনতে পারলো?”

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে এনইআইআর পদ্ধতিকে তারা সাধুবাদ জানায়। তবে, এই পদ্ধতি যারা টাকার বিনিময়ে চালু করাতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য কি, সেটি খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে গ্রাহকরা এরইমধ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন জানিয়ে তারা বলেন, আমাদের কাছে হাজার হাজার অভিযোগ আসছে। অনেকের ফোনেই নেটওয়ার্ক চলে গেছে। এটি তো হওয়ার কথা ছিলো না। আমাদের তো বলা হয়েছিল পুরোনো ফোনে কোনো সমস্যা হবে না। আর আমাদের কাছে থাকা ফোনগুলো ৩ মাসের মধ্যে বিক্রি করতে সময় দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে যদি সমস্যা তৈরি হয়, পরবর্তীতে এই সমস্যার সমাধান কী হবে? সরকারকে একটি প্রক্রিয়া চালু করার আগে নিশ্চয়ই আরো গবেষণা করা উচিত ছিলো। আমরা সরকারকে আরো গবেষণা করে এনইআইআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি।

ডিবিটেক/আরবি/ডিপিও/এমইউএম