ফলোআপঃ
রাতভর আন্দোলনের পর শাকসু নির্বাচন নিয়ে বিকেলে সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে রাতভর আন্দোলনের পর শেষ রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষার্থী ও শাকসু নির্বাচন কমিশন।
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ভোরে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। শিক্ষার্থী ও নির্বাচন কমিশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শাকসু নির্বাচন বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়— জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে রাতভর আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ছাত্রদল ভিসি ভবন ও গোলচত্বরে এবং ছাত্রশিবির শাকসু নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভ মিছিলে বিজয় ২৪ হলের ভিপি প্রার্থী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আন্দোলনের মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন শাকসু নির্বাচন কমিশনাররা। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে বিষয়টি উপ-উপাচার্যকে অবহিত করা হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এবং পরে প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
আলোচনায় উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করে বলেন, উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং প্রজ্ঞাপনটি নির্বাচন কমিশন জারি করেছে। উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা এতে সন্তুষ্ট হননি এবং তারা একটাই দাবি জানান, ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর।
একপর্যায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপ-উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, উপাচার্য জরুরি মুহূর্তে তার সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তিনি যেন এখনই উপাচার্যকে ফোন করে জানান আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টির সমাধান করতে। শিক্ষার্থীরাও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
এরপর বাধ্য হয়ে উপ-উপাচার্য উপাচার্যকে ফোন করেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির কথা জানান। জবাবে উপাচার্য বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক রয়েছে। ফলে দুপুর ২টার পর নির্বাচন কমিশনে যেতে পারবেন।
এতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে জানাতে হবে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে কি না।
ডিবিটেক/এডিও/ইকে







