দেশি-বিদেশি চক্রে টেলিগ্রামে প্রতারণায় চীনা নাগরিকসহ গ্রেফতার ৮
রাজধানীর ভাটারা ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন ও ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পাঁচ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রামভিত্তিক প্রতারক চক্রের মোট আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাকিয়ার, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।
১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবি সাইবার উত্তরের উপ-পুলিশ (ডিসি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
তিনি জানান, ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে চাকরির প্রলোভন, টেলিগ্রাম গ্রুপভিত্তিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি ভাটারা থানার একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
ডিবির সাইবারের এই কর্মকর্তা আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আরও অনলাইন প্রতারক চক্রের তথ্য পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজন বিদেশি নাগরিকসহ আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অভিযানে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম ও পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তার প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো অধিক মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
বাংলাদেশিরা চীনা প্রতারক নাগরিকদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা চক্রের মধ্যে অনেক লোক কাজ করে। কেউ একজন বিদেশি নাগরিক তো আর ফোনে বাংলায় কথা বলবেন না। আমাদের কালচারও বুঝবেন না। এজন্য দেশী বিদেশি সবাই মিলেই আসলে এই কাজটা করেন।
বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও এতগুলো সিম কীভাবে কালেক্ট করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা আশ্চর্য হয়েছি। আমরা এই সিমগুলার একদম মূলে যাব, যে কীভাবে সিমগুলা, কার মাধ্যমে এসেছে এতগুলা সিম। এটা আমরা সবই পেয়েছি। তদন্তের মধ্যে সবকিছু স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।
এই অর্থগুলো কীভাবে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি, আমাদের দেশের মানুষ যে অর্থগুলো তাদেরকে দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে যানান তিনি।
সবাইকে সতর্ক করে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, অপরিচিত কারো সঙ্গে বিকাশের লেনদেন করা যাবে না। অপরিচিত অন্য কোনো অ্যাকাউন্টেও লেনদেন করা যাবে না। এমনকি প্রলোভন দেখিয়ে কারো কারো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও এ প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে তাদের প্রতারণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বুঝে না বুঝেও সেই অ্যাকাউন্ট তাদেরকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। অপরিচিত কারো সঙ্গে বিকাশে অ্যাকাউন্টে কোনোভাবে কোনো লেনদেন না করার জন্য আমরা সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। চীনা নাগরিক, কতদিন আগে দেশে এসেছে, কি ভিসায় এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামিরা কবে এসেছে বা কখন এসেছে এটা আমরা তাদের পাসপোর্টগুলো যাচাই বাছাই করছি।
তিনি বলেন, আমরা এই মালামালগুলো তাদের বাসা থেকে উদ্ধার করেছি। তাদের যে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে যা কিছুই উদ্ধার করেছে সবগুলোতে চায়না সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডিবিটেক/ডিপিও/এমইউএম







