ই-রিটার্নে ভয়ের কিছু নেই; প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধন

ই-রিটার্নে ভয়ের কিছু নেই;  প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধন
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫০  

ই-রিটার্ন দিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজারের বেশি করদাতা নিবন্ধন করছেন জানিয়ে জাতীয় রাজস্ববোর্ড চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, “অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় ব্যাংকের তথ্য দিলে ভয়ের কিছু নেই। আমরা কারো ব্যাংক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য দেখি না। তবে তদন্তের প্রয়োজনে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। তাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।”

২১ ডিসেম্বর, রবিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই অভয় দেন। ডিআরইউ সদস্যদের জন্য ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল সাপোর্টিং বুথের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেছেন, বর্তমানে সবার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। তবে বয়স্ক করদাতাদের জন্য ম্যানুয়ালি রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থাও চালু আছে। তিনি বলেন, “এখনও ভ্যাট কাগজে নেওয়া হচ্ছে, তবে আগামী বছর থেকে ভ্যাটও সম্পূর্ণ অনলাইনে নেওয়া হবে। অনলাইনে কর বা ভ্যাট দাখিলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেন এবং তা পরে ধরা পড়ে, তাহলে তাকে আইনি জটিলতায় পড়তে হবে।”

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজস্ববোর্ড চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলে সহায়তার জন্য সাপোর্টিং বুথ স্থাপনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সম্প্রতি কর বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “অনলাইনে ট্যাক্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে তথ্য দিলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে কেউ ভুল তথ্য দিলে বা হিসাবের গরমিল হলে দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তাবে।”

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গত আগস্টে সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথম দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে এনবিআর।

রিটার্ন জমার সময় বাড়বে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না... সময় বাড়ানোর ব্যাপারটা এখনই বলা যাবে না। এটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, যেহেতু প্রথমবারের মতো আমরা অনলাইনটাকে বাধ্যতামূলক করেছি। বিশেষ করে অ্যাডভোকেটদেরকেও যারা ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার তাদেরকেও আমরা এই সুযোগ দিয়েছি; তাদের সব ক্লায়েন্টের রিটার্ন তারা অনলাইনে দিতে পারবে। ফলে সবারই একটা প্রিপারেশনের ব্যাপার আছে, চলছে। তো সেটা যদি সরকার মনে করে যে, না আমাদের আরেকটু বাড়ানোর প্রয়োজন হবে হয়ত সরকার বিবেচনা করবে। আমি এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে এটা আমার মনে হয় যে আমাদের সময় বলে দেবে যে কী পরিমাণ রিটার্ন জমা পড়েছে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম সাকিল আহমাদ বলেন, “সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। আপনারা যদি কর রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন, তাহলে সমাজের অন্যরাও আপনাদের দেখে উৎসাহিত হবে।”

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, “অনেকে মনে করেন সাংবাদিকরা আইন মানতে চায় না—কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা আইন মানি এবং দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই কর দিতে চাই। কর দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি আতঙ্ক কাজ করে। এই আতঙ্ক দূর হলে সবাই আরও উৎসাহ নিয়ে কর দিতে আগ্রহী হবে।”

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, আয়কর রিটার্ন দাখিল একটি জটিল প্রক্রিয়া। এটি এনবিআর এখন অনলাইনে করায় অনেকটাই সহজ হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এনবিআরকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

স্বাগত বক্তব্যে ডিআরইউ’র অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল বলেন, “দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে সদস্যদের জন্য এই প্রথম ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল সাপোর্টিং বুথ চালু করেছে। বুথে সদস্যদের জন্য আয়কর আইনজীবী ও আয়কর উপদেষ্টাদের দ্বারা সেবা প্রদান করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়কর বিষয়ে গোল্ডেন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও আয়কর উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম, ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিক মিয়া হোসেনসহ ডিআরইউ’র সদস্যরা।

ডিবিটেক/এনএমএস/ইক