১৫ হাজার ফেসবুক পেজ থেকে জাইমার ভুয়া ভিডিও! বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে দিনে ৪টি গুজব!

১৫ হাজার ফেসবুক পেজ থেকে জাইমার ভুয়া ভিডিও! বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে দিনে ৪টি গুজব!
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:৪৬  
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:২২  

“হ্যাং করে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান লাইভে”-এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও প্রায় ১৫ হাজার ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার হয়েছে। সেখানে জাইমা রহমানকে বলতে শোনা যায়, “তারেক রহমান অতি দ্রুত দেশে আসবেন”। 

১০ ডিসেম্বর, বুধবার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ২০ লক্ষের বেশী বার দেখা হয় ভিডিওটি। পরে ফ্যাক্টচেক করে জানা যায়, ভিডিওটি আসল নয়, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে  ছড়িয়েছে দুটি গুজব। 

একটিতে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপিও নেবে না। ভুয়া ওই পোস্ট আবার শেয়ার হয়েছে অর্ধ হাজারের বেশি। দিনের শেষ ভাগে গুজব ছড়ায়- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজামান দুর্দ নাকি নিজ দল বিএনপি নিয়েই ক্ষোভ জানিয়েছেন। 

“হ্যাং করে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান লাইভ”  ভিডিওতে জাইমা রহমানকে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দেশবাসী, তারেক রহমান অতি তাড়াতড়ি দেশে আসবেন।আপনারা কেউ দ্রুশিন্তা করবেন না। তারেক রহমানকে নিয়ে অনেকেই ষড়শন্তে লিপ্ত আছেন। তবে এই ভিডিওটি ভালো করে বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ‘বাবার দেশে ফেরা’ সংক্রান্ত লাইভ ভিডিও আসল নয়। 

ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি ভিডিও। 

এদিকে টিকটকে দৈনিক ‘সমকাল’-এর একটি ফটোকার্ড প্রায় ৬৫ হাজার বার দেখেছেন অনেকে। সেখানে দাবী করা হয়েছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাকি বলেছেন ‘ইতিহাস হয়ে থাকবে শেখ হাসিনার ভয়ে রাজনীতিবিদরা এক্য হারিয়ে ফেলেছেন।’ 

পোস্টে আরও উল্লেখ ছিল যে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পছে নেতারা তবে নাচাই দেখা গেল, এমন শিরোনামে সমকাল কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি।

ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় গণমধ্যমটির ফটোকার্ড নকল করে এটা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এর কিছুক্ষন আগে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবী করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নিবে না’। 

পরে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, দাবীটি মিখ্যা। এমন মন্তব্য করেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনও এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে এই গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অপতথ্য আরো আছে। ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবী করা হয়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজামান দুদু বলেছেন-‘আমাকে ব্যবহারে পর টিসুর মতো ছুড়ে ফেলে দিল বিএনপি’। পোস্টে শামসুজামান দুদুর ছাবিও যুক্ত করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্টেক করে জানা গেল, শামসুজামান দুর্দ নিজ দল বিএনপিকে নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আলেচিত দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়াও অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম রাইজিং বিডিতে আলোচিত ছবি যুক্ত করে  সম্প্রতি, ডাকসু ভবনের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে পাচঁ দেশ অর্থাৎ, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ভারতের পতাকা লাগানোর হয়েছে দাবিতে একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।  রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাকসুর প্রবেশদ্বারের মেঝেতে পাঁচ দেশের পতাকা লাগানো হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, সেখানে শুধু পাকিস্তানের পতাকা লাগানো হয়েছিল। পাঁচ দেশের পতাকাসহ ভাইরাল ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পাদিত। শুরুতে প্রচারিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। দেখা যায়, আলোচিত ছবিটিতে গুগলের এআই ‘Gemini’ এর লোগো রয়েছে। 

এদিকে কুমিল্লা নিউজের ফেসবুক পেজে গত ৫ ডিসেম্বর ‘খালেদা জিয়া তারেক রহমানের ছবি ভা’ঙ’চুর করল ছাত্রদল’ শীর্ষক তথ্য সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। কুমিল্লা নিউজের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘খালেদা জিয়া তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করল ছাত্রদল’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘খালেদা জিয়া তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করল শিবির’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।   কুমিল্লা নিউজের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করেছে দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ফেইক একাউন্ট থেকে আপত্তিকর, সংবেদনশীল ও উষ্কানীমূলক মন্তব্যজুড়ে দিয়ে তৈরি হচ্ছে নকল ফটোকার্ড, ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সংঘবদ্ধভাবে। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকে নিয়েই অপতথ্য বেশি ছড়াচ্ছে। এর বাইরে ব্যক্তিগত অক্রমন করেও ছড়ানো হচ্ছে অপতথ্য। এই কঠিন বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয় বরং গণমাধ্যমের খবরগুলোতেই আস্থা রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ডিবিটেক/আরএইচ/ইকে