তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রফতানির মূল খাত হতে পারে প্রযুক্তি
বাংলাদেশ এখনও রফতানি ক্ষেত্রে একটি খাত তৈরি পোশাকেই আটকে আছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর বিশ্বে যে পরিমাণ রফতানি করে তার ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক। অথচ সেই তৈরি পোশাকেরও বাংলাদেশের কোনো নিজস্ব ব্র্যান্ড নেই। এমন অবস্থায় রফতানির ভিন্নতা আনতে সবচেয়ে উপযোগী খাত প্রযুক্তি ও পযুক্তিপণ্য বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ থেকে বিশ্বে: উৎপাদন ও রপ্তানির স্বপ্ন’ শিরোনামে প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তরা।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায়, প্যানেলে আলোচক ছিলেন ইপিবির মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, আরএফএল ইলেক্ট্রনিক্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নূর আলম, ওয়ালটন ডিজি হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুর রউফ, শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দন চৌধুরী এবং বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র স্পেশালিস্ট উবাহ থমাস উবাহ।
প্যানেল আলোচনার আগে মূল প্রবন্ধে দেশের রফতানি পণ্য ও।সেবা এবং দেশিও প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি।
উপস্থাপনায় মি. জহির দেখান, বাংলাদেশ এখন ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানির ঘরে।, এন অধিকাংশ গার্মেন্ট সেক্টরে। অন্য খাতের রফতানি এখনো বলার মতো না। নতুন রপ্তানির ফ্রন্টিয়ার হতে পারে প্রযুক্তি ও ডিভাইস।
সেটা করতে হলে দেশেই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ০-৩ বছর, মধ্যমেয়াদি ৩-৬ বছর এবং দীর্ঘমেয়াদী ৭-১০ বছরের পরিকল্পনা। এটা ধরে এগোলে আমরা আরএমজির পাশাপাশি অন্য যেকোনো খাতেই রফতানির বড় স্বপ্ন বাস্ততবায়ন করতে পারবো।
এক্ষেত্রে তিনি গবেষণা উন্নযন বাজেট বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সীমাবন্ধতার কিছু দিক চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনায় ইপিবির মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, আমাদের রফতানির ৮০ ভাগই আরএমজির। এমনকি এই মার্কেটের বড় অংশ ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং কিছু যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে এটা আমাদের বড় একটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফলে আমাদের রফতানির ক্ষেত্রে বাজার নিয়ে ভাবতে হবে।
ইপিবি সামনে একটি মেলা করতে চায় যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর প্রদর্শন করা হবে। সেখানে তথ্য-প্রযুক্তিকেও গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরার কথা জানান তিনি। যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্য পরিচিতি পায় এবং রপ্তানির বাজার বড় হয়।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র স্পেশালিস্ট উবাহ থমাস উবাহ বলেন, বাংলাদেশের এখন বিভিন্ন এজেন্ডা ধরে আগোনো দরকার। সেটা করতে হলে সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ এখন অনেক বড় প্রযুক্তিবাজার যা রপ্তানিযোগ্য। এখানে অনেক ট্যালেন্ট আছে, যা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও সবচেয়ে বড় একটি বিষয় সেটা হলো ফাইন্যান্স। বেসরকারি খাতে সরকারের পলিসির সঙ্গে ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রটাও উন্মুক্ত করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ থেকেউ ইউনিকর্ন কিছু বের হয়ে আসতে পারে।
আরএফএল ইলেক্ট্রনিক্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নূর আলম কথা বলেন দেশের ইলেক্ট্রনিক মার্কেট নিয়ে। বলেন, আমাদের ইলেক্ট্রনিক্সের সব যন্ত্রাংশ এখনো আমদানি নির্ভর। কিন্তু সেটার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ডলারের দাম বেশি আবার ট্যাক্স দিতে হয়। এখন তো বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পণ্যের দাম নিয়ণ্ত্রণ করা ও স্বল্পমূল্যে দেয়া চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ওয়ালটন ডিজি হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুর রউফ বলেন, চীনের পর সাউথ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ইলেক্ট্রনিক কারখানা ওয়ালটনের। বর্তমানে আমরা রোবটিক সিস্টেম ব্যবহার করছি। নিজেদের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান তৈরি করা এবং রপ্তানি পণ্যে সবসময় আমরা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করি। রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধা অনেক। কারণ আমাদের এখানের ২২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, অন্যদিকে আমেরিকায় ১১০ ভোল্ট। ফলে শুরুতেই আমরা এখানে বাধায় পড়ি। ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধা কাটিয়ে উঠতে হবে। তাছাড়া সম্ভব নয়।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দীন চৌধুরী কথা বলেন এফডিআই নিয়ে। শাওমি বাংলাদেশে তাদের স্মার্টফোন কারখানা স্থাপন করে স্মার্টফোন তৈরি করছে। তিনি বলেন, আমাদের জন্য ইলেক্ট্রনিক্সে ক্ষেত্রে সঠিক পলিসি করতে হবে। সামনে বছর যে পরিমাণ স্মার্টফোন বিক্রি হবে তা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার, বাংলাদেশ যদি তার ৫ শতাংশ করতে পারে তাহলে কয়েক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পারবে।
তিনি বলেন, আমাদের এখানে ব্র্যান্ড আনতে হবে। আমাদের এখানে অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে, আমাদের এখন দরকার সঠিক পলিসি। তাহলে আমরা বাংলাদেশ থেকেই ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, স্মার্টফোন রপ্তানি করতে পারবো।
ডিবিটেক/আইএইচএম/ইকে







