সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়তে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের তাগিদ
বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভাব নেই। দরকার তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতকে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিষ্ঠা করা। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একাডেমিয়ার ঘনিষ্টতা বাড়িয়ে দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা, গবেষণায় অর্থায়ন এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তিতে জোর দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে বিগটেক বান্ধব পলিসি প্রণয়ন; এআই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল টুইনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী হওয়া তাগিদ দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইনডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত ‘ভোক্তা থেকে উৎপাদক হিসেবে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর এবং ডিপ-টেক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।
ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদুর রহমানের সঞ্চলনায় প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (BSIA) সভাপতি এম এ জব্বার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (EEE) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাদিম চৌধুরী, হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড ডিরেক্টর লিন হাই (হেভেন), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি ও কনফিগভিআর (ConfigVR) ও কনফিগআরবট (ConfigRbot)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রুদমিলা নওশিন।
ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে আলোচনায় যুক্ত হন আমেরিকার পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন। তিনি বলেছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতে বাংলাদেশী অনেকেই বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছেন। আমরা চাই এই খাতে বিশ্বে বাংলদেশকে দ্রুত এগিয়ে নিতে। তাই এই গভীর রাতে আমি এই অনুষ্ঠান যুক্ত হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উদ্ভাবন নির্ভর খাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকেই এই উদ্ভাবনগুলো আসে। আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই খাতের উপযোগী করতে এবং সেমিকন্ডাক্টর ইকো সিস্টেমে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার-একাডেমিয়া-এনআরবিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এম এ জব্বার বলেন, ডিপটেক সহজ নয়। তবে বাংলাদেশের জন্য সেমিকন্ডাক্টর খাত পরবর্তী সম্ভাবনার খাত হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। এই শুন্যতা পূরণে ক্রেস্ট ও বিয়ার সামিট গতি এনেছে। এখন আমাদের পলিসি সাপোর্ট দরকার। যদি ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে তবে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টরে ভ্যালুচেইনের অধীনে আনতে আমরা দেশে সেমিকন্ডাক্টর নকশা, ফ্যাব্রিকেশন ও প্যাকেজিং ও টেস্টিংয়ে গুরুত্বারোপ করেছি। এর সঙ্গে সমান গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়ন। দেশি-বিদেশী যৌথ অংশীদারিত্বে প্যাকেজিংয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। এখন আমাদেরকে একসঙ্গে কোম্পনির বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, আমরা সেমিকন্ডাক্টর খাত থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। এ খাতে এগিয়ে যেতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই।
রুদমিলা নওশিন বলেন, প্রতিবেশী দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এখন আমাদের দেশকে এই খাতে প্রতিষ্ঠিত করতে ট্রেনিং ল্যাব, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থায় কমপক্ষে এক বছর ইন্ডাস্ট্রি থেকে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা নেয়ার বিষয়টি কারিকুলামে অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। আধুনিক কারিকুলাম ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দরকার।
নির্দিষ্ট ডিসিপ্লিনের মধ্যে আটকে না রেখে অন্যান্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই খাতে তরুণদের অন্তভূক্তির পাশাপাশি বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে এগিয়ে যাওয়ার পরমার্শ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (EEE) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাদিম চৌধুরী।
তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়নে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ সীমিত। রয়েছে শিক্ষক সঙ্কট। একইসঙ্গে এখানে রয়েছে দক্ষ প্রকৌশলীর অভাব। স্বল্প কিছু কোম্পানি সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কাজ করছে। তারা একইসঙ্গে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষকর্মী গড়ে তুলছে।
হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড ডিরেক্টর লিন হাই (হেভেন) বলেন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিদিশেী বিনিয়োগ আনতে হলে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার দরকার। বাংলাদেশ ডিজাইন খাতে কাজ করছে যা আশাপ্রদ। এগিয়ে যেতে প্রয়োজন স্থিতিশীল সরকার।
ডিবিটেক/এসএম/ইএস







