রাসায়নিকের বিষাক্ত ধোঁয়ায় অজ্ঞান, পুড়ে অঙ্গার শ্রমিক: ফায়ার সার্ভিস

রাসায়নিকের বিষাক্ত ধোঁয়ায় অজ্ঞান, পুড়ে অঙ্গার শ্রমিক: ফায়ার সার্ভিস
১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ২০:৫৫  

রাজধানীর মিরপুরে রূপনগর আবাসিক এলাকার শিববাড়িতে আড়াই কাঠার শিল্প প্লটের ওপর গড়ে ওঠা ‘শাহ আলম কেমিকেলস’ নামের রাসায়নিকের গুদামটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন  ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। ঘটনাস্থলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাংবাদিকদের ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়ে তিনি বলেছেন, মৃতদেহগুলো এমনভাবে পুড়েছে, তাদের শনাক্ত করা সম্ভব নয়। আমার মনে হয় ডিএনএ টেস্ট ছাড়া কোনোভাবেই শনাক্ত করা সম্ভব না।”

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবগুলো লাশ উদ্ধার হয়েছে পোশাক কারখানা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে। তাদের ধারণা, মঙ্গলবার দুপুরে রাসায়নিকের গুদামে আগুন লাগার পর চারদিকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দ্রুত আক্রান্ত হন ঠিক পাশের চারতলা পোশাক কারখানার ভবনটির কর্মীরা।

এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলেন, “চারতলা পোশাক কারখানার উপরে ছাদ টিনের। ছাদে যাওয়ার জন্য সেখানে একটি গ্রিলের দরজা রয়েছে। সেটি তালা মারা ছিল। এ কারণে তারা উপরের দিকে যেতে পারেননি। আপনারা জানেন যে পরিমাণ কেমিকেল বিস্ফোরণ, সেটার ফ্ল্যাশওভারে টক্সিক গ্যাসের কারণে আকস্মিকভাবে ওনারা অজ্ঞান হয়েছেন। পরে তারা সরতে পারেননি। উপরে যেতে পারেননি, নিচেও যেতে পারেননি।”

 তাজুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের অনেককে চেনা না যাওয়ায় এখনি পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

রাসায়নিক গুদামের আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসার তথ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, সেখানেও মৃতদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা। 

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও কেমিকেল ল্যাব এক্সপার্টরা সেখানে কাজ করছেন বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

অপরদিকে  আগুন লাগার পর পুরো এলাকায় রাসায়নিকের ঝাঁঝালো ধোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছিল। দুই প্রস্থ মাস্ক পরেও নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, চোখও জ্বলছিল অনেকের। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ঘটনাস্থলে ভিড় করে ছিলেন অনেক মানুষ। নিখোঁজদের স্বজনদের চাইতে বেশির ভাগই ছিলেন কৌতুহলী মানুষ। তাদের কারণে কাজে বেগ পেতে হচ্ছিল উদ্ধার কর্মীদের। আনসার, পুলিশ, বিজিবি এমনকি সেনা সদস্যরাও তাদের ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরাতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, ফায়ার সার্ভিস শুরুতে বলেছিল, আগুনের সূত্রপাত যে রাসায়নিকের গুদাম থেকে সেটির নাম কসমিক ফার্মা। তবে পরে ফায়ার সার্ভিসের বোর্ডে গুদামের নাম লেখা হয় ‘শাহ আলম কেমিকেলস’। আবার স্থানীয় কয়েকজন বলেছেন, ওই গুদামের নাম ‘আলম ট্রেডার্স’। এটা আলম কেমিকেল ফ্যাক্টরি নামে চেনেন স্থানীয়ীরা। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত মালিকের কোনো মোবাইল ফোন অথবা মালিকের কোনো কর্মচারী ম্যানেজার কাউকেই পাওয়া যায়নি। পুলিশ এবং আর্মি সবাই চেষ্টা করছে, (কারখানার) কাউকে সনাক্ত করতে।