ফলোআপ
ফের হ্যাকারদের কবলে ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ
হ্যাকারদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়ার ৪ ঘন্টান পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ আবারও হ্যাকারদের কবলে পড়েছে। ৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হ্যাকাররা আবারও পেজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ফেইসবুক পেইজটির প্রোফাইল ও কভার ফটো পরিবর্তন করে হ্যাকররা। এক মিনিট পর ফেইসবুক পেইজটিতে তারা পোস্ট করে ‘পেইজ হ্যাকড?’।
এর আগে শুক্রবার ভোরে হ্যাকড হওয়ার পর বিকাল ৪টার দিকে ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তারা পেজটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু মাত্র ১৫ মিনিট আগে আবারও পেজটি হ্যাকারদের দখলে চলে যায়।
৮টা ৩২ মিনিটে আরেকটি পোস্ট করে- ‘হ্যালো ডিয়ার ইসলামী ব্যাংক সো-কল্ড এক্সপার্টস’। এরপর রাত ৯টা ২২ মিনিটে আরেকটি বড় পোস্ট করেছে তারা।
দুই দফাতেই তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘এমএস ৪৭০ এক্স’ নামে।
ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই আবারও পেজটি হ্যাকারদের দখলে চলে গেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নতুন করে যোগাযোগ করছি।”
শুক্রবার ভোরে প্রথম দফায় হ্যাকড হওয়ার পর ‘এমএস ৪৭০ এক্স’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ পেজটির প্রোফাইল ছবি ও কভার পরিবর্তন করে নিজেদের লোগো বসায়। তারা একটি পোস্টে দাবি করে, ইসলামী ব্যাংকের ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে’ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। যদিও কিছু সময় পর সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয়।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকে বড় ধরনের ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চার শতাধিক কর্মকর্তা সরাসরি বরখাস্ত হয়েছেন, অনেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। পাশাপাশি বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। একই সময়ে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে ব্যাংক। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যাংকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম হ্যাকড হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ব্যাংকের আইটি টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। হ্যাকাররা লিখেছে:
‘‘হ্যালো, প্রিয় ম্যাংগো পিপল,
‘আমরা আবারও প্রবেশাধিকার পেয়েছি, কারণ অনেক তথাকথিত বিশেষজ্ঞ দাবি করে যে, যদি তারা আপনার বিজনেস ম্যানেজার ভেরিফাই করে দেয়, তাহলে আপনার সিস্টেম কখনোই হ্যাক হবে না।’
‘তাদের আমরা বলি: যেসব বিজনেস ম্যানেজার আমরা নিয়ন্ত্রণে নিই, সেগুলো আগেই ভেরিফাই করা থাকে। আমরা সিস্টেম ভাঙি না, আমরা সিস্টেম তৈরি করি। আর সবাই এটা মনে রাখবেন।’
‘অনলাইনে কেউই আসলে নিরাপদ নয়। যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিজনেস ম্যানেজার ভেরিফাই করানোর পরামর্শ দিচ্ছে, তারাই নিজেরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।’
‘তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের কাছে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন না। নিজের সিস্টেম নিজেরাই সুরক্ষিত করুন।’
‘আর আমাদের নাম মনে রাখুন—MS 470X। আমরা কাউকে ক্ষতি করতে আসিনি; আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ও মানুষকে সুরক্ষা দিতে এসেছি।’
‘আমরা সবকিছু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি। কখনোই নিজেকে ১০০% নিরাপদ মনে করবেন না। কারণ, সবসময় আপনার চেয়ে বুদ্ধিমান কেউ না কেউ থাকে।’
‘যদি কখনও বিশেষ কিছুতে প্রবেশাধিকার পান, সেটির অপব্যবহার করবেন না।
লল, মাই ফ্রেন্ড জুকার।’’



