৫ আগস্ট মুছে ফেলা হয় শেখ হাসিনার ৪ ফোনের ১ হাজার কল রেকর্ড

৫ আগস্ট মুছে ফেলা হয় শেখ হাসিনার ৪ ফোনের ১ হাজার কল রেকর্ড
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:৩১  
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০১:১৯  

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার ফোনের তথ্যসহ প্রায় ১ হাজার কল রেকর্ড মুছে ফেলা হয়েছে। ‘প্রাথমিকভাবে শনাক্ত ৪টি নম্বরই শেখ হাসিনার। এই নম্বরগুলোর মুছে ফেলা ডিজিটাল এভিডেন্স উদ্ধারে কাজ চলছে' বলে২৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর জোহা।

তিনি জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যখন ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নেন, সে সময় তার কলরেকর্ড মুছে ফেলতে ব্যস্ত ছিলেন এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান। এর আগে ঢাকায় জুলাই আন্দোলন দমাতে হাজারও নির্দেশনা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। 

তানভীর জোহা বলেন, লোক পাঠিয়ে ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় এনটিএমসির সার্ভার থেকে মুছে দেয়া হয় শেখ হাসিনার ৪টি নম্বরের মালিকানার তথ্যসহ প্রায় ১ হাজার কল রেকর্ড। তবে তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাবেক এক পরিকল্পনা মন্ত্রীর কল রেকর্ডও মুছে ফেলা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

'শেখ হাসিনার ফোন থেকে কলডেটা মুছে ফেলার ঘটনাটি নজিরবিহিন' উল্লেখ করে তিনি বলেন,সএই সংখ্যা আমি সরাসরি উল্লেখ করছি না। তবে ঘটনাটি ঘটেছে এনটিএমসিতে। আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট কেন বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাই। আমরা ডেটা মুছায় এনটিএমসির ইনভলভমেন্ট পাই। আমরা তথ্য পেয়েছি, জিয়াউল আহসানের নির্দেশে এনটিএমসির চুক্তিভিত্তিক কিছু কর্মকর্তা ডিজিটাল আলামত মুছে ফেলেন।

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় এনটিএমসির সার্ভার থেকে মুছে দেওয়া কলরেকর্ড উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এ সময় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাবেক এক পরিকল্পনা মন্ত্রীর কল রেকর্ডও মুছে ফেলা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা গেছে, এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালকের নির্দেশে ওপেন সোর্সের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এক ব্যক্তি এই তথ্য মোছার কাজ করেন।

প্রসঙ্গত, জিয়াউল আহসান সর্বশেষ এনটিএমসির মহাপরিচালক ছিলেন। গত ১৫ বছর আলোচিত ও প্রভাবশালী এই কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।