ই-রিটার্নের সঙ্গে করদাতার ব্যাংকের সংযোগ স্থাপনে ভয় নেই
‘অনলাইন আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সরাসরি ব্যাংক সংযোগ করদাতাদের সুবিধার জন্যই প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করদাতার ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য এনবিআরের কোনও কর্মকর্তা দেখতে পাবেন না। তাই এ বিষয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’
১০ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও রাজস্ব ভবনে মিট দ্য বিজনেস শীর্ষক সেমিনারে এমন অভয় দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিনি জানান, গত ১৪ আগস্ট এনবিআর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে করদাতার অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স, সুদের আয় ও উৎসে কর কর্তনের তথ্য রিয়েল-টাইমে অনলাইনে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ উদ্যোগকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও করদাতার তথ্য গোপনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি বলেন, “করদাতার যাতে হিসাব বিবরণী বারবার আনতে না হয়, সে কারণে আমরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। করদাতাদের ব্যাংকের তথ্য এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা দেখতে পাবেন না।”
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করদাতাদের বারবার হিসাব বিবরণী আনার ঝামেলা দূর করতেই বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ বা করদাতাদের লেনদেনে কোনও প্রভাব পড়বে না।’
করপোরেট কর প্রসঙ্গে আবদুর রহমান খান বলেন, ‘করপোরেট করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে বর্তমানে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও করপোরেট রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যবসায়ীরা যেন সহজে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিআইএনধারীদের নোটিশ দেওয়া হয়রানি নয়। বরং রিটার্ন জমা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে। র্যান্ডম ভিত্তিতে অডিট করা হবে এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতি তিনটির মধ্যে অন্তত একটি নতুন ফাইল অডিটে আসবে।’
ভ্যাট প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, প্রয়োজনে ভ্যাট রেট কমিয়ে একক হারে আনা হবে। ভ্যাট সংগ্রহে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। টোব্যাকো খাতে ৮৩ শতাংশ ভ্যাট আরোপ থাকলেও এর বড় অংশ ফাঁকি যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত এক বছরে তিন হাজার অডিটে বিপুল ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। এজন্য কিউআর কোডকেন্দ্রিক সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ভ্যাট আদায়কে স্বয়ংক্রিয় করতে চান এনবিআর।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভ্যাট ও কর প্রদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এতে ব্যবসা সহজ হবে, স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।’
ভ্যাট হার নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট রেট নিয়ে অনেক আপত্তি দেখলাম। প্রয়োজনে ভ্যাট রেট কমাবো। ভ্যাট রেট হবে একক রেট। আমরা চাই ডিজিটালাইজেশন। আমরা সফটওয়্যার করতে চাই।



