বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া
৮ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৬  
৮ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৫৭  

বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল স্থাপনের বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল মহানগরের সুদোকওয়ন ল্যান্ডফিল ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (এসএলসি)। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যমান উন্মুক্ত ডাম্পিং সাইটের যথাযথ অবসায়ন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। 

সে লক্ষ্যেই ৮ জুলাই, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এসএলসি’র একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল। বৈঠকে চট্টগ্রামের দুটি বিদ্যমান ডাম্পিং সাইট বন্ধ ও পুনর্বাসন এবং একটি নতুন আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপনের ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন তারা। এছাড়াও কোরিয়ান পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুদান ও সহজশর্তে ঋণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।  

বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. রেজাউল করিম, কোরিয়ার এসএলসি পরিচালক সিওক ওউ জংসহ উভয় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

আলোচনায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দেশে বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস, বর্জ্য সংগ্রাহকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য উন্নত পর্যায়ের বর্জ্য শ্রেণিবিন্যাস, পুনর্ব্যবহার ও উপাদান পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে অংশ নেয়া প্রতিনিধি দলটি  চট্টগ্রামে বিদ্যমান দুটি ডাম্পিং সাইট বন্ধের কাজ ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশাবাদা ব্যক্ত করেন। এর পরে ২০ বছরের একটি পর্যবেক্ষণকাল থাকবে উল্লেখ করে প্রতিনিধিদল আরও জানায়, ভূমি স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে প্রথম ৫ বছর পর এসব স্থান জনসাধারণের জন্য পার্ক হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা যেতে পারে।

অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহকদের নতুন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা। তাদে মতেম, এতে করে কর্মপরিবেশ উন্নত হবেএবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধারে দক্ষতা বাড়বে।

বৈঠক সূত্রে প্রকাশ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র ও প্রকল্প সংক্রান্ত দলিলাদি পাঠানোর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা কার্যকর করার অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও অত্যাধুনিক সুদোকওয়ন ল্যান্ডফিলের অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশে শেয়ার করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এসএলসির প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যমান উন্মুক্ত ডাম্পিং সাইটের যথাযথ বন্ধ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস প্রকল্পের প্রস্তাবও দেয় কোরিয়ান পক্ষ।

বৈঠকটি ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হয়।

০৮-জুলাই/ডিজিবিটেক/ইএইচএম