স্যাটেলাইটে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি

স্যাটেলাইটে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি
১৪ জুন, ২০২৫ ২০:২৯  
১৪ জুন, ২০২৫ ২২:২৯  

বিস্তৃত নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাই ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এ স্থাপনার মধ্যে আছে বিশাল ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং মাটির উপরে একটি ছোট পাইলট সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র।

তবে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। ম্যাক্সার টেকনোলজিস প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বিস্ফোরণের চিহ্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন।

এই হামলাটি গতকাল সংঘটিত হয়, যেখানে ইসরায়েল অভিযোগ করে যে ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হচ্ছে, এবং এই হামলা সেই প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতেই চালানো হয়েছে।

নাতাঞ্জ হচ্ছে ইরানের অন্যতম প্রধান এবং সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনা, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ চলে। এই স্থাপনাটি আগেও সাইবার আক্রমণ ও বিস্ফোরণের লক্ষ্য হয়েছে। তবে এবারের ক্ষয়ক্ষতি স্যাটেলাইটে পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলার পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অংশ বলে দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।

গত শুক্রবার ইসরায়েল ইরানের একাধিক স্থানে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়, যার মধ্যে নাতাঞ্জ অন্যতম। এই হামলায় বহু সামরিক এবং প্রযুক্তিগত স্থাপনা টার্গেট করা হয়, যা ইরান মনে করছে তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার উপর সরাসরি আঘাত।

হামলার পর ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায়। 

এদিকে ইসরায়েলের হামলার পর তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আদৌ আর আছে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি খুব একটা বেশি নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার ভোররাত থেকে ইসরায়েল ইরানের সামরিক নেতৃত্ব, পরমাণু বিজ্ঞানী, একাধিক সামরিক স্থাপনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সফল হামলা চালাতে পারলেও পারমাণবিক স্থাপনায় তাদের হামলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই উপগ্রহের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ।