বেসিস
প্রশাসক নিয়োগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা
আন্দোলন-বিক্ষোভ। পদত্যাগ-পূণর্বিন্যাস। এরপর প্রশাসক নিয়োগ। একপর্যায়ে পদত্যাগ করেন তিনিও। এমন প্রশাসনিক সঙ্কটের মধ্যে আদালতে গড়িয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পরিচালনার ভবিষ্যত।
এরইমধ্যে অবশ্য বিগত সময়ে আইসিটি খাতের সবচেয়ে ভেইব্রেন্ট সংগঠনটিতে প্রশাসক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। চেম্বার জজ বিচারপতি রেজাউল হক গত ১৪ মে (বুধবার) এ আদেশ দেন। চলতি সপ্তাহে কিংবা আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসবে বলে মনে করছেন রিটকারী সদস্য তৌফিকুল করিম সুহৃদ। কেনন, ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের কার্য তালিকার ৩৬ নম্বরে আইনজীবি একেএম নুরুল আলমের করা রিটের স্থগিতাদেশটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
রবিবার তিনি ডিজিবাংলা-কে জানান, গত বছর ১৫ ডিসেম্বর তার করা রিটে বেসিসে প্রশাসকের সকল কার্যক্রম স্থগিত করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এরপর গত মার্চে আদালত সংশ্লিষ্ট রিট ডিসচার্জ করে দেন। চেম্বার জজ আদালতে নতুন করে গত ১১ মে ফাইলিং করা হলে ১৪ মে আদালত স্টে অর্ডার দেন। ফলে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বেসিসে নতুন করে কোনো প্রশাসক নিয়োগ দেয়া যাবে না। আদালতে রিট শুনানি করেন একেএম নুরুল আলম। ফলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বেসিসে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, বেসিস কোনো ব্যক্তি বা নেতার সংগঠন নয়। তাই এটি নিয়ে যা চলছে তা সাধারণ সদস্যদের জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। এমন পরিস্থিতির উত্তরণের জন্য রিট করেছিলাম। সবশেষ আদালতের নির্দেশনা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি। এখন পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত যদি মনে করেন, প্রশাসক থাকবে না তবে কিভাবে আগামীর বেসিস পরিচালিত দেবে সেই নির্দেশনাও রায়ে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে আগের পরিচালনা কমিটিকেও ফিরিয়ে দিতে পারে। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিবেচনার বিষয়। তবে বাণিজ্যিক সংগঠন সবসময় নির্বাচিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়াটািই কল্যাণকর।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতা অভ্যূত্থানের পর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বেসিসের প্রশাসক হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রশাসককে সহায়তা করতে ও বেসিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাফেল কবিরের নেতৃত্বে বেসিস সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে ৩০ এপ্রিল বেসিস সহায়ক কমিটি থেকে রাফেল কবিরের পদত্যাগ এবং ১ মে রাতে এই সহায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর ৪ মে বেসিসের প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুহম্মদ মেহেদী হাসান।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মুহাম্মদ রেহান উদ্দিন রবিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বেসিসে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে বিষয়টি আজকালের মধ্যে চূড়ান্ত হবে, এটা নিশ্চিত। তারপরই নিশ্চিত হবে বেসিস-এ নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরিচালনা করবেন।
তবে আইনি বাধার কারণে রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত বেসিস-এ প্রশাসক বসানোর কোনো সুযোগ নেই।







