ফ্যাক্টচেক: রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে না, সত্য নয়

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:১৪  

গত এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে একাধিকবার রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে না এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, নানা কারণে এটা কার্যকর হয়নি। একই ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসেছে বলে বৃহস্পতিবার খবর প্রকাশিত হয় দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে।

তবে এই খবরটি পুরোপুরি সত্য নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধে গুরুত্বারোপ করা হয়। সেখানে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচিত হলেও এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

অর্থাৎ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বা পরিবেশ অধিদপ্তর এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

অবশ্য ওই সেমিনারের সভাপতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়ে। সেখানে মহাপরিচালক বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে। বিশ্বমানের পর্যটন শহর হিসেবে গড়তে কক্সবাজারকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে, প্লাস্টিক মুক্ত রাখার প্রচেষ্টার এ যাত্রায় সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের বিষয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে আব্দুল হামিদ জানান, এজন্য জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। দেশের নদীগুলোর দূষণ নিয়েও তারা কাজ করছেন। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে এরইমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

অর্থাৎ এই বক্তব্যের মধ্যেও নিবন্ধন ছাড়া সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাবে না এমন সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, গত এক দশক ধরে তৎকালীন সরকার একাধিকবার ঘোষণা করেছিল রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া সীমিত করা হবে। কিন্তু নানা কারণে এটা তখন আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তারাও চাইছেন গোছানো পর্যটনে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার সমৃদ্ধ হোক।

এদিকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত করার কথা প্রচার পাওয়ার পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ মনে করেন, কক্সবাজারে যেসব পর্যটক বেড়াতে আসেন তার বিশাল একটি অংশ সেন্টমার্টিন যেতে আগ্রহী থাকেন। যদি পর্যটক সীমিত করা হয় তাহলে পর্যটন ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি হবে। কক্সবাজার বিমুখ হবে পর্যটকরা।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন কক্সবাজার ট্যুয়াক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, সেন্টমার্টিন নিয়ে বারবার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা বলেছিলাম ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা বসে আলোচনা করে এটির একটি সুন্দর সমাধান করা যায়। কিন্তু আমরা এর কোনো কিছুই দেখি না। যা অত্যন্ত দু:খজনক। অথচ সেন্টমার্টিনের সঙ্গে কয়েক লাখ মানুষের জীবন জীবিকা জড়িত।