কৃষিতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি : স্মার্ট কৃষক গড়তে ৪ হাজার কোটি টাকার ‘চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্প’

১৪ মে, ২০২৪ ১৯:০৯  

দেশে কৃষিতে এআই, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও আইওটি’র মত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষকদের ক্যাশলেস করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে তৃণমূলের কৃষকদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ক্যাশলেস কৃষি সমাজ বিনির্মাণে ‘স্মার্ট কৃষক’ তৈরির পথে হাঁটছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এরই অংশ হিসেবে ৪ হাজার কোটি টাকার ‘চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্প’ হাতে নিয়েছেন তিনি।

বুধবার ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় এই সংসদ সদস্য। জানিয়েছেন, চলনবিলে কৃষি ও মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট নির্মাণ করা হবে। ঢাকা থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনলাইনে যুক্ত হয়ে সিংড়ার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেছেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল এদেশের কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। বঙ্গবন্ধুর সেই অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে সফল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে চলনবিলে কৃষি ও মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট নির্মাণ করা হবে। একটা সময় স্বয়ংক্রিয় কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন কৃষক একাই একটা বড় খামারের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন। নিকট ভবিষ্যতে আমরা হয়তো দেখবো দূরনিয়ন্ত্রিত চালকবিহীন কৃষি যন্ত্রপাতি আমাদের কৃষকদের মাঝে চলে আসবে। আমরা যাতে এসব ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে সেগুলো নিজেরাই উদ্ভাবন করতে পারি, সেজন্য আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই আমাদেরকে স্মার্ট কৃষি প্রকল্প গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন আমরা চেষ্টা করছি আমাদের কৃষকদেরকে ক্যাশলেস ট্রানজেকশনের সাথে পরিচিত করাতে। সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার খাল খননের বাইরেও আমরা ৪ হাজার কোটি টাকার ‘চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্প’ হাতে নিয়েছি। চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে চলনবিলের কৃষি ও কৃষকের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। আমাদের চলনবিল শস্য ভাণ্ডার এবং মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে সুপরিচিত। ফলে ফসলে, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর চলনবিল দিনে দিনে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি আমাদের কৃষিতে এআই, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও আইওটি’র মত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় এসেছে।

অনুষ্ঠানে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় চলনবিলের সিংড়ার কৃষকদের মাঝে ৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ১০টি মেইজ শেলার, ৬টি রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার, এবং ৭টি পাওয়ার স্প্রেয়ারসহ প্রায় ৮১ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়।

ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম প্রভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার রোজি, সিংড়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ।