মুঠোফোনে বার্তা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

মুঠোফোনে বার্তা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৫০  

মুঠোফোনে বার্তা দিয়ে মাদারীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের সরবরাহ করা উত্তরপত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত এবং অপরজন একজন গৃহিণী। আটক ব্যক্তিরা হলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার জুরগাঁও গ্রামের অবিনাশ মণ্ডলের ছেলে অমৃত মণ্ডল এবং সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ছয়না এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী বেগম। অমৃত মণ্ডল বর্তমানে আনসার সদস্য হিসেবে মতিঝিল থানায় কর্মরত রয়েছেন।

শুক্রবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১০ জানুয়ারি (শনিবার) সকালে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে ৯ ডিসেম্বর, (শুক্রবার) বিকেলে সদর উপজেলা শহরের আসমত আলী খান পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চরমুগরীয়া মহাবিদ্যালয়-এই দুইটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে শুক্রবার বিকেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন জেলা শহরের আসমত আলী খান পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে অমৃত মণ্ডল পরীক্ষা দিতে আসেন। পরে পরীক্ষা চলাকালে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং ফোনটিতে পরীক্ষার উত্তরপত্র পাওয়া যায়। এ সময় তাকে আটক করে মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার কাছে এ উত্তরপত্র বিক্রি করেছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের প্রধান রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি এলাকার অসিম গাইন। তার কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে এ তথ্য জানা যায়।

অপরদিকে, একই দিনে সদর উপজেলার চরমুগরীয়া মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে থেকে লাভলী আক্তার নামে আরেকজনকে আটক করেন শিবচর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা ইসলাম। জানা যায়, চরমুগরীয়া মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বসে উত্তরপত্র হাতে লেখা একটি শিট পড়ছিলেন লাভলী। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে পড়ে। এ সময় তাকে সন্দেহজনকভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উত্তরপত্রের শিটের সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া যায়। পরে তাকে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, উত্তরপত্র দেখে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আজ তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।
ডিবিটেক/ ডিপিও/ইকে