ডিএসই স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালু, ডিসেম্বরে ওয়ান স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস ও আধুনিক ল্যান্ডিং পেজ
দেশের পুঁজিবাজারে ডিজিটাল রূপান্তরের পথ আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে তাদের সব নথি ডিজিটাল উপায়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে জমা দিতে পারবে। আগে কোম্পানিগুলোকে একই নথি হার্ড কপি ও ই-মেইলে একাধিক প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হতো। এখন এক জায়গা থেকেই সব নথি জমা দেওয়া যাবে।
এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তাদের স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমে (এসএসএস) রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অনবোর্ডিং—এ দুটি ফিচার বা সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২৬ নভেম্বর বুধবার ‘ রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ও সিএসই অনবোর্ডিং’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনীতে জানানো হয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস চালু এবং আধুনিক ল্যান্ডিং পেজ উন্মোচন করা হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন—ডিএসই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল।’
ডিএসইর চেয়ারম্যান জানান, দীর্ঘদিন ধরে নথি জমা ও রিপোর্টিংয়ের বড় অংশ ম্যানুয়াল ও হার্ড কপি–নির্ভর থাকায় বিনিয়োগ–কার্যচক্র ধীর ও ব্যয়বহুল ছিল। কিন্তু স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, রেগুলেটরি রিপোর্ট, আর্থিক বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় নথি এখন থেকে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি হার্ড কপি সাবমিশন পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় সময়, ব্যয় ও নথি–জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা হবে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ডিএসই-এর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে স্মার্ট সাবমিশন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সঠিক, দ্রুত ও নিরাপদ ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার নতুন দিগন্ত খুলে গেল। তিনি জানান, চাইনিজ কনসোর্টিয়াম অংশীদারত্বের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বিপিএম–ভিত্তিক কার্যপ্রবাহ অটোমেশন গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএসইর কর্মীরা শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে নিজস্ব সক্ষমতায় সিস্টেমটি উন্নয়ন করে।
বিএসইসি কমিশনার বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক তথ্য শুধু পিডিএফে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ডিএসই যাবে এআই-পাঠযোগ্য ও মেশিন–রিডেবল এক্সবিআরএল–ভিত্তিক সাবমিশনের দিকে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডেটা অবকাঠামোর নতুন যুগ নির্দেশ করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদ কুতুব বলেন, দীর্ঘদিনের পিছিয়ে থাকা পুঁজিবাজার ডিজিটালাইজেশনের পথে নতুন করে সূচনা করেছে ডিএসই-এর এ উদ্যোগ। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসই জানায়, নতুন রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউলের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রতিবেদন, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত, লভ্যাংশ ঘোষণা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুততম সময়ে অনলাইনে জমা দিতে পারবে। অন্যদিকে সিএসই অনবোর্ডিং চালু হওয়ায় ডিএসইর সিস্টেমে একবার তথ্য জমা দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে পৌঁছে যাবে। আবার সিএসইতে তথ্য জমা দিলে তা ডিএসইতে চলে আসবে। ফলে দুই এক্সচেঞ্জে আলাদা আলাদা নথি পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। এতে সময় বাঁচবে ও কাজের গতি বাড়বে।







