ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকারে অন্তর্ভূক্ত করে

২৪ দফা ইশতেহারে ‘তথ্যপ্রযুক্তি’র প্রাধান্য

২৪ দফা ইশতেহারে ‘তথ্যপ্রযুক্তি’র প্রাধান্য
৩ আগষ্ট, ২০২৫ ২১:২৬  
৩ আগষ্ট, ২০২৫ ২৩:২৮  

 ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকারে অন্তর্ভূক্ত করে ‘নতুন বাংলাদেশের’ ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩ আগস্ট, রবিবার সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে এনসিপি আয়োজিত এক সমাবেশে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ইশতেহারে স্বতন্ত্রভাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব অংশ থাকলেও বিভিন্ন দফায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকে যেমন প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তেমনি শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সরকারি সেবায় কাগজ, সময় এবং সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজন কমিয়ে ডিজিটাল গভার্নেন্স চালুর প্রতি।

ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কারে মামলার নথিপত্রগুলোকে ডিজিটাল করা এবং মামলার অগ্রগতি অনলাইনে ট্র্যাকিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তুলতে প্রতিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। 

গণমাধ্যমে মিসইনফরমেশন/গুজব ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (EHR) সিস্টেম চালু, ৩০ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা-সহায়ক পরিবেশ তৈরির কথা বলা হয়েছে। এজন্য জেলা-ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট ওয়ার্ক হাব গড়ে তোলা এবং পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, কো-ওয়ার্কিং স্পেস, ও উচ্চগতির ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে এনসিপি। বিদেশে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির লক্ষ্যে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিক্স, হসপিটালিটি ও প্রকৌশল খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছে ইশতেহারে।

বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পী নীতির অধীনে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চ মূল্য সংযোজন খাত যেমন, ঔষধশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) প্রসারে বিশেষ নীতি সহায়তার প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে। 
টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জনে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, জলবায়ু-সহনশীল জাতের বীজ, পরিবেশবান্ধব সার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তার উপর যথাযথ ভর্তুকি প্রদান এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও মোবাইলভিত্তিক পরামর্শসেবা সহজলভ্য করার কথা বলা হয়েছে।  কৃষকদের জন্য আবহাওয়া, বাজারদর ও সরকারি সহায়তা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানকারী একটি সমন্বিত জাতীয় মোবাইল প্ল্যাটফর্ম চালু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সমুদ্রসীমা ও এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে মৎস্য ও খনিজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রসারের কথা রয়েছে ইশতেহারে। 
এছাড়াও জাতীয় প্রতিরক্ষ কৌশলে সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি অধিগ্রহণ, দেশীয় সামরিক গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে একটি UAV (Unmanned Aerial Vehicle) ব্রিগেড গঠনের প্রত্যয় রয়েছে। 

 

গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব শিরোনামের ইশতেহারে বলা হয়েছে, আমরা উন্নত বিশ্ব থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দেশে প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। আমরা বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি গবেষণায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগে ৫০ বছর মেয়াদি বিভিন্ন বিজ্ঞান গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করবো। এসব প্রকল্পের আওতায় অ্যারোনেটিক্স, মহাকাশ গবেষণা, সিগনাল ইন্টেলিজেন্স, রেডার প্রযুক্তি, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাকটার, কোয়ান্টাম টেকনোলজি, ন্যানো-টেকনোলোজি, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, ও বায়োটেকনোলোজি প্রভৃতি বিষয়ে সর্বাধুনিক গবেষণা ল্যাব স্থাপন করবো। পাশাপাশি এ বিষয়ক বিশ্বের সেরা ল্যাবগুলোর সাথে সহযোগিতা স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের প্রতিযোগিতামূলক বেতনে নিয়োগ করবো। কম্পিউটেশনাল গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার জন্য একটি ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি করবো। বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর আউটপুট মূল্যায়নের জন্য কমিশন গঠন করব এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করবো। তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন গঠন করবো।