বাংলা ভাষায় ‘হাই-এন্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সফ্টওয়্যার তৈরির তাগিদ

বাংলা ভাষায় ‘হাই-এন্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সফ্টওয়্যার তৈরির তাগিদ
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৯:০৬  
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২৩:০৮  

বিশ্বব্যাপী ইতিমধ্যেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে পুরোদমে। তাই এখন বাংলা ভাষায় হাই-এন্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফ্টওয়্যার, ওসিআর সফ্টওয়্যার এবং সার্চ ইঞ্জিন ইত্যাদিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার উর্বর সময়।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই বলেছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকাই, বিশেষ করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে; এখানে লক্ষণীয় যে, আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় একাডেমিক পাঠ্যপুস্তক, কলাম এবং নিবন্ধ, জার্নাল এবং মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু প্রায় সব শাখাতেই অত্যন্ত বিরল। আমি বিশ্বাস করি যে বৃহত্তর একাডেমিয়ার যেকোনও ক্ষেত্রে উন্নত জ্ঞানের শিক্ষাদানের পাশাপাশি এর প্রয়োগে দক্ষ তরুণ প্রজন্মের তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি যে, অনুরূপ প্রয়োজনীয়তা অনেক ঔপনিবেশিক পরবর্তী উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোতেও বিদ্যমান। আমি আশা করি, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, পণ্ডিত, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও একাডেমিক এবং প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা শুরু করবেন এবং আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ভাষাগত উত্তরাধিকার রেখে যাবেন। বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে এটি সমগ্র গ্লোবাল সাউথের জন্য প্রযোজ্য।’

চব্বিশের বিপ্লবে তরুণদের আত্মত্যাগ সব ধরনের বৈষম্য দূর করার পাথেয় বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিপ্লব এবং তরুণদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক শোষণসহ সব ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য এক দুর্দান্ত সুযোগ দিয়েছে। একটি উন্নত বাংলাদেশ তৈরির সুযোগ করার জন্য আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তাদের শ্রদ্ধা জানাই আমি।

জসীম উদ্দিন বলেন, দিনটি বিশ্বজুড়ে আমাদের সবার জন্য একটি শুভ মুহূর্ত নিয়ে আসে। সব ধরনের সংস্কৃতিতে পরিচিত ও অজানা ব্যক্তিদের স্মরণ করতে, পৃথিবীর প্রতিটি জায়গায় বসবাসরত সব জাতিসত্তা, যারা অগণিত উপায়ে অবদান ও ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং তাদের সংস্কৃতিকে রক্ষা ও সমুন্নত রাখতে সংগ্রাম করেছে। একই সময়ের মধ্যে আমাদের জাতীয় পরিচয় নির্বিশেষে, আমরা একটি সর্বজনীন মানবজাতির সদস্য হিসেবে বর্তমানে আমরা যে সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় বিশ্বে বসবাস করি, তার জন্য সেই অজ্ঞাত নায়কদের কাছে চিরকাল ঋণী থাকা উচিত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের ডিন মজিদ হালিম। আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুজন ভাইস। স্বাগত বক্তব্য দেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির মহাপরিচালক ইকবাল আহমেদ।