কালিকৈরে তৈরি হবে দেশী ব্র্যান্ডের ইভি 

কালিকৈরে তৈরি হবে দেশী ব্র্যান্ডের ইভি 
২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০০:০৬  

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরে 'মেড ইন বাংলাদেশ' বাস্তবতা তৈরি করছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এর প্রথম ও অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি–উদ্যোক্তা অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কে ইতোমধ্যে বহু স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। অত্যাধুনিক অবকাঠামো, প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে সুবিধা, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা এবং ম্যানুফ্যাকচারিং-সমর্থিত পরিবেশের কারণে এটি এখন দেশের প্রযুক্তি শিল্পের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং, আইওটি  প্রসেসিং ও অটোমেশনসহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী শিল্প স্থাপনে পার্কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশী ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে দেশের খ্যাতনামা হোসেন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বাংলা কারস। ২ নভেম্বর, মঙ্গলবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে স্থাপন করা হচ্ছে দেশী ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি ও এসইউভি কার প্রস্তুত কারখানা। বাংলা কারস এর এই দ্বিতীয় কারখানাটি হবে পার্কের ৪ নং ব্লকের ৩৪৫ নম্বর প্লটে।  

কারখানাটি উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিভাগের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এসময় হোসাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসাইন ও প্রতিষ্ঠানটির সিইও ড.আব্দুস সাত্তার উপস্থিত থাকবেন।

আগামী দুই বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি এখানে ৫০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাকারস এর সেলস মার্কেটিটং মনির হোসেন রুদ্র। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে প্রথমবারের মতো এমন মাত্রার উৎপাদন উদ্যোগ দেশীয় বাজারে সাশ্রয়ী গাড়ির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। 

এর আগে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকায় ১৫ বিঘা জমির ওপর বিদেশি দাইয়্যুন অটোমাবাইল মিৎসুবিশি কোম্পানির সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে বৈদ্যুতিক গাড়ির অ্যাসেম্বলিং করা শুরু করে বাংলা কারস। সেখান থেকে মেডইন বাংলাদেশ হিসেবে দুই মডেলের ইভি  ট্রাক তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। তখন হোসাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসাইন জানিয়েছিলেন, ইভি ট্রাকে জ্বালানি খরচ নেই বললেই চলে। শব্দদূষণও হয় না। মেইনটেন্যান্স খরচও কম। তাছাড়া এই ট্রাকের রিসেলস ভ্যালু খুবই ভালো। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার নিজেরাই দেশী মডেলের গাড়ি বানাতে মনোযোগী হলো প্রতিষ্ঠানটি।
ডিবিটেক/আইএইচ/ওআর