এনইআইআর চালু হলে বাড়বে না দাম, বন্ধ হবে না ফোন

এনইআইআর চালু হলে বাড়বে না দাম, বন্ধ হবে না ফোন
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:১৮  
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৪০  

যেকোনো একটি মডেলের মোবাইল হ্যান্ডসেটেরই সর্বোচ্চ ১০লাখ ক্লোন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাজারে। এসব হ্যান্ডসেট দিয়ে আর্থিক-সামাজিক নানা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে একটি বড় চক্র। ক্রেতারাও না বুঝে নকল হ্যান্ডসেট কিনে পাচ্ছেন না ওয়ারেন্টি সেবা। 

এমন অজস্র অভিযোগ আমলে নিয়েই বিজয় দিবসে যাত্রা শুরু হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার বা এনইআইার সেবা।

তবে এনইআইআর কার্যক্রম চালু হলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম বাড়বে এমন শঙ্ক নাকচ করে দিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, এক টাকাও দাম বাড়বে না। 

এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেন বিটিআরসি কমিশনার মোহাম্মাদ মাহমুদ হোসাইন। তিনি বলেছেন, ২০১৮ সাল থেকে এটা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। নাগরিকের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা বাস্তবায়নে বাজারে স্টকে থাকা হ্যান্ডসেট লিগ্যাল চ্যানেলে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে ডিসেম্বরে সমাধান আসবে। 

 তিনি বলেন, হ্যন্ডসেটের মানের ওপর নেটওয়ার্কের মান নির্ভর করে। এনইআইআর বাস্তবায়নের পর মোবাইল ফোনের দাম না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবে পরিণত করতে হবে। মিস কমিউনিকেশন ঠেকাতে হবে। ১৬ ডিসেম্বরের আগের কোনো ফোন বন্ধ হবে না।

২৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার টিআরএনবির এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটা জানান তিনি। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান।

সভপতি সমীর কুমার দে এর সঞ্চালনায় এসময় বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম, এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহীদ, মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির  সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সিনেসিস আইটি'র সিএসও আমিনুল বারী সৌরভ এবং ফিনটেক প্রতিষ্ঠান নগদ এর ভিপি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এনইআইআর সেবা কতটা সুরক্ষিত প্রশ্নের জবাবে কৌতুক করে বিটিআরসি মহাপরিচালক আমিনুল হক জানালেন, অসম্ভব না; যদি বিটিআরসির ডিজি কম্প্রমাইজ হন। 

এই সেবার নানান দিক তুলে ধরেন তিনি জানান, এই সেবা চালু হলে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া হ্যান্ডসেট ঘরে বসেই বন্ধ করতে পারবেন ভুক্তভোগী গ্রাহক। 

দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহীদ বলেন, এনইআইআর আমাদের প্রজেক্ট নয়। এটি ন্যাশনাল ইস্যু। ইল-মোটিভ ছাড়া কেউ এর বিরুদ্ধে যেতে পারে না। 

মোবাইল ফোনের পেনিট্রেশন বাড়াতে 'ট্যাক্স সহনশীল করা দরকার' উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যবসা করি না আইনের বিষয় মেনে ব্যবসা করতে চাই। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা ট্যাগ লাইন বাদ দিন।

আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু বলেন, গ্রে ব্যবসায় মাত্র ৫০০-১০০ জন জড়িত। ২০ হাজারের মধ্যে ১৮ হাজারই চ্যানেল প্রোডাক্ট বিক্রি করে। গ্রে যারা করেন তারাও একসময় চ্যানেল ফোন বিক্রি করতো। সীমান্ত থেকে অবাধে দেশে ঢোকা মোবাই ফোনের বাজারের প্রভাবই বেশি। তাই এনইআইার চালু হওয়া দরকার।

জহিরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ব্যবসায় সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। এক মাসের মধ্যে মোবাইল ইমপোর্ট করতে পারেন। তাই এখানে সিন্ডিকেট হওয়ার কোনো কারণ নেই। ২৫০ এর মতো দেশী-বিদেশী ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন রয়েছে।  ৮-১০ শতাংশ বেশি কমিশন দেবো।
ডিবিটেক/আইএইচ