যেভাবে শুক্রবারের ভূমিকম্প, ফের ৭ মাত্রার শঙ্কা ও করণীয়

যেভাবে শুক্রবারের ভূমিকম্প, ফের ৭ মাত্রার শঙ্কা ও করণীয়
২১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩৬  

শুক্রবারের ভূমিকম্প এত বড় ঝাঁকুনি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, দেশের পূর্ব প্রান্তটা হচ্ছে বার্মা প্লেট, পশ্চিমটা হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্লেট; এই সংযোগস্থলে ভূমিকম্প হয়েছে। আর এই সংযোগটা এতদিন আটকে ছিল। এখন এই সংযোগটা আজকে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে খুলে গেছে। অর্থাৎ আটকানোটা বা লকটা খুলে গেছে। খন সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে। আজকের এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটা আটকানো অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। 

এছাড়া বাংলাদেশের মধ্যে টেকটোনিক প্লেটের যে পাঁচটি সোর্স আছে তার মধ্যে নোয়াখালী থেকে শুরু করে কক্সবাজার, নোয়াখালী থেকে সিলেট এবং আরেকটি সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে গেছে। নোয়াখালী থেকে সিলেট, এই অংশে যে বড় ফাটল রয়েছে তারই একটি ছোট অংশ নরসিংদী, এর ফলে নরসিংদী এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেও মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী। বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার ছয় তলার ওপর থাকা ছয় লাখ ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। তাই আজকের এই ভূমিকম্পের পর সবাইকে সচেতন ও সাবধান হতে হবে।

অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসাইন ভূইয়ার মতে, বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এমন যে, ভূমিকম্প হওয়া অবশ্যম্ভাবী। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান তিনটি টেকটোনিক প্লেট- ইন্ডিয়ান প্লেট, বার্মিজ প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি সবসময় বিদ্যমান। বাংলাদেশের ভূগঠন মূলত নরম শিলা দিয়ে তৈরি। তাই নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ অ্যাম্পলিচিউডের ভূমিকম্প হলে ক্ষতি বেশি হয়। ভূমিকম্পের কম্পন মাটির নিজস্ব কম্পাঙ্ক ও ভবনের কম্পাঙ্ক একসাথে মিলে গেলে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির 'ঢাকা এবং এর আশপাশে বিগত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া ভূমিকম্পের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প' এবং ‌'যে কোনো সময় বাংলাদেশে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে' বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তবে ঠিক কবে হবে সেটা আমরা বলতে পারি না।

এমন পরিস্থিতিতে ‘ড্রপ, কভার ও হোল্ড অন’ মেনে চলা, নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া এবং সতর্ক থাকা- এই তিনটি পদক্ষেপ জীবনের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এর মানে হলো, কম্পন অনুভূত হওয়া মাত্রই মাটিতে নামা, শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং নিরাপদ অবস্থান ধরে রাখা।

ঘরে থাকলে- ডেস্ক বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া। মাথা ও ঘাড়কে হাত দিয়ে ঢেকে যতটা সম্ভব রাখা। জানালা, কাচ, ভারী আসবাবপত্র এবং রান্নাঘরের কাছাকাছি জায়গা থেকে দূরে থাকা।

বাইরে থাকলে- খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে জরুরি। ভবন, গাছ, চিমনি, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং যে কোনো উঁচু বস্তু থেকে দূরে থাকা।

গাড়িতে থাকলে- নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা। সেতু, ওভারপাস, গাছ এবং বিদ্যুতের লাইনের নিচে গাড়ি না রাখা। কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি থেকে না নামা।

পাহাড়ি ও সমুদ্রসৈকত এলাকায়- পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস ও গাছপালার ধ্বংসাবশেষ থেকে সতর্ক থাকা। সমুদ্রের কাছে থাকলে স্থানীয় সুনামি সতর্কতা মেনে চলা।
ডিবিটেক/আরবি/মুইম