ডেটা ক্লাসিফিকেশন থাকছে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন

ডেটা ক্লাসিফিকেশন থাকছে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন
২৮ জুন, ২০২৫ ১৯:০৭  
২৮ জুন, ২০২৫ ২০:১৮  

বিশ্বের প্রথমবারের মতো ডেটা ক্লাসিফিকেশনকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ২৮ জুন (শনিবার) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এর সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক অপতথ্যের গতি-প্রকৃতি শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এ কথা বলেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডেটার যে অংশ ব্যক্তিকে শনাক্ত করে সে অংশ ক্লাসিফাই করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন ইনফরমেশন (PII) এর জন্য দেশেই আলাদা স্টোরেজ করা যেন এটা দেশের বাইরে না যায়।  এর মধ্যে কনফিডেনশিয়াল তথ্য, যেমন হেলথ রেকর্ডস বা ফিন্যান্সিয়াল ডেটা, ব্যবহার করা যাবে নির্ধারিত শর্তে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। ডেটার যে অংশে ছবি, ভিডিও, কথা থাকবে তা একটা ম্যাপিং এর মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় স্টোরেজ করা যাবে কিন্তু পিআইআই এর স্টোরেজ দেশেই রাখতে হবে।  

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে উৎপাদিত, প্রস্তুতকৃত সকল কন্টেন্টকে সাইবার স্পেসের সীমানায় এনে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির পরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন,  গত ১৫ বছরে রাষ্ট্র নিজে মিথ্যার কারখানায় পরিণত হয়েছিল এবং সংবাদমাধ্যম তার সমর্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’  অপতথ্যকে শুধু ফ্যাক্টচেক দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এটাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ (ইবিএলআইসিটি) প্রকল্পের পরামর্শক মামুন অর রশিদ।

মামুন-উর-রশীদ বলেন, মিডিয়া হাউজ যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেটা পুরো সোসাইটির জন্য হুমকিস্বরূপ। 

৫ আগস্টের পর বিভিন্ন হাউজের সংবাদ প্রকাশের ডেটাসহ বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের অপতথ্য ছড়ানোর হার নিয়ে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করে তিনি বলেন, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আমাদের দেশে সরব। আর বাংলাদেশে মিস ইনফরমেশন শেয়ার করার একটি বড় মাধ্যম ফটোকার্ড।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মিডিয়া হাউজগুলো মনে করে ফ্যাক্টচেক এর পেছনে টাকা খরচ অতিরিক্ত, যেটা তারা চান না। অথচ মিস ইনফরমেশন শেয়ার করার একটি বড় মাধ্যম হলো ফটোকার্ড। ভাইরাল ঘটনার খবর গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার হয়। 

সেমিনারে প্রবন্ধের ওপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। এতে বক্তব্য রাখেন- প্রথমা প্রকাশনার প্রধান সমন্বয়কারী মশিউল আলম, একাত্তর টিভির সিওও শফিক আহমেদ, যুগান্তরের নগর সম্পাদক মিজান মালিক প্রমুখ। 

সংবাদমাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে তুলে ধরেন তারা। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ।