ফেইক ফটো-ভিডিও’র টার্গেটে শহীদ ওসমান হাদি

ফেইক ফটো-ভিডিও’র টার্গেটে শহীদ ওসমান হাদি
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:৪৩  

আততায়ীর গুলিতে নিহত শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একের পর এক ফেইক ফটোকার্ড, এআই কারসাজির ছবি ও ভূল ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এরইমধ্যে হাদির কবরের ওপর কুকুরের এডিটেড ছবি, জানাজার আসল ছবি বলে এআই নির্মিত ছবি প্রকাশ, সিনএনজি’তে হাদির শিশু বাচ্চার ছবি, তার বোন ও স্ত্রীর নামে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। প্রতিদিনই এ ধরনের অপতথ্য, কুতথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়।  

এর মধ্যে হাদি ইস্যুতে শেখ হাসিনার ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে পুরোনো ভাষণের ভিডিও, হাদি হত্যা ইস্যুতে ডাকসু নেত্রী জুমার বক্তব্য দাবিতে কালের কণ্ঠের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড এবং খালেদা জিয়া ও ওসমান হাদি প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার হতে দেখা গেছে। 

একইভাবে ‘এই বয়সে এতিম হলেন শহীদ ওসমান হাদির ছেলে’- মর্মে ওসমান হাদি ও তার শিশুপুত্রের দাবিতে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। উভয় ছবিতেই শিশুটিকে ওসমান হাদির সন্তান দাবি করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই শিশুটি ওসমান হাদির নয়। শিশুটির ভিন্ন একটি পরিবার রয়েছে, এবং ওসমান হাদির নিজের শিশু সন্তানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানেএখানেএখানেএখানেএখানে। একটি সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ভেতরে একটি শিশুপুত্রকে নিয়ে ওসমান হাদি (বা তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অপর কোনো ব্যক্তিকে) বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। 

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, গত ১৮ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে এই ছবিটা Ayhan – King Of The Moon নামক পেজ থেকে আপলোড করা হয়েছিল। ছবির ক্যাপশন ছিল- ‘মাশআল্লাহ্‌! এমন পুতুল একটা পেলে জীবনে আর কী চাই’।  পেজটির ‘এবাউট’ সেকশন থেকে জানা গেল, এই ছেলেশিশুটির নাম আয়হান,বাবার নাম অন্তর মাশউদ,মায়ের নাম সাদিয়া খান।

পরবর্তীতে অন্তর মাশউদ এর মূল ফেসবুক একাউন্ট থেকেও দেখা যাচ্ছে, তিনি তার নিজের শিশুকে ওসমান হাদির শিশু হিসেবে ছড়িয়ে পড়া গুজবের ব্যাপারে সতর্ক করছেন। ১৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের পর তিই এই বিষয়ক একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত জুন মাসে একটি সাক্ষাৎকারে ওসমান হাদি জানান, আল্লাহ আমাকে একটা সন্তান দিয়েছে। তিন মাস ওর বয়স। আমার বাচ্চাটারে তিন মাসে ত্রিশ মিনিটও আমি কোলে নিতে পারি নাই।  

সেই হিসাবে ডিসেম্বর মাসে এই শিশুটির বয়স হওয়া উচিত ৯ মাস। তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আলোচ্য ছবিটতে শিশুটির বয়স ২ বছরের আশেপাশে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।এছাড়া ওসমান হাদির ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে তার পরিবার বা সন্তানের কোনো ছবি দেখা যায়নি। সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এ সংক্রান্ত পোস্টগুলোকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করছে।

একইভাবে আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির কবরের ওপর কুকুর দেখা গেছে দাবিতে ফেসবুকে একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিটি এডিটেড। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে  হাদির কবরের ওপর কুকুরের ছবিটি যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। 

ফেসবুকে এই দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট পোস্ট-১, পোস্ট-২, পোস্ট-৩, পোস্ট-৪ পোস্ট-৫ এ প্রচারিত ছবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) নামে খোলা একটি ফেসবুক পেজে মূল ছবিটি পাওয়া যায়। এটি গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) পেজটিতে পোস্ট করা হয়। এই ছবির সঙ্গে ওসমান হাদির কবরের ওপর কুকুর দেখা গেছে দাবিতে প্রচারিত ছবিটির বিভিন্ন উপাদানের হুবহু মিল পাওয়া যায়। যা থেকে অনুমান করা যায়, কুকুরযুক্ত ছবিটি এডিট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এই সম্ভাবনা থেকে ছবিটি গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি (SynthID) দিয়ে যাচাই করে দেখা হয়। এটি গুগলের এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। কোনো ছবি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না জানতে চাইলে জেমিনিতে ছবিটি আপলোড করে এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডিকে জিজ্ঞেস করলে (@SynthID) টুলটি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়।

হাদির কবরের ওপর কুকুরযুক্ত ছবিটি এই সিন্থআইডি (SynthID) দিয়ে যাচাই করে দেখা হয়। সিন্থআইডি ছবিটি যাচাই করে জানায়, এটি গুগলের এআই টুলস ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা। এতে ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক রয়েছে। 

এ ছাড়া ছবিটি ইমেজ ভেরিফিকেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট নামে একটি টুলের সাহায্যেও যাচাই করে দেখা হয়। এই টুলটি TruFor নামে একটি অ্যালগরিদমের সাহায্যে ছবিটি বিশ্লেষণ করে। 

এই অ্যালগরিদমটি এআই বেইসড ফিল্টারের সাহায্যে ছবি বিশ্লেষণ করে। এক্ষেত্রে ছবিতে কোনো বিকৃতি করা হলে সেই অংশটি লাল রং দিয়ে হাইলাইট করে দেওয়া হয়। বিপরীতে ছবির প্রকৃত উপাদানগুলো নীল রঙে হাইলাইট করা হয়। ওসমান হাদির কবরের ওপরের কুকুরের ছবিটিতেও এই ফলাফল দেখা যায়।  

অপরদিকে  ২১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত ওসমান হাদির জানাজার দৃশ্য দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)। একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি ওসমান হাদির জানাজার আসল ছবি নয় বরং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এই ছবিকে আসল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি নিয়ে রিভার্স সার্চ করলে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে আলোচিত ছবিটি আসল হওয়ার সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, ওসমান হাদির কোনো জানাজার ভিডিওতেও আলোচিত দৃশ্য পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ওসমান হাদির জানাজার এরূপ কোনো ছবি ধারণ করা হলে তা মূলধারার গণমাধ্যম বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যেত।

পরবর্তী অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম এটিএন বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে গত ২১ ডিসেম্বরে ওসমান হাদির জানাজার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রদর্শিত ওসমান হাদির জানাজার দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত দৃশ্যের বৈসাদৃশ্য পাওয়া যায়, যা নিশ্চিত করে প্রচারিত ছবি ওসমান হাদির জানাজার দৃশ্যের নয়। 

তাছাড়া, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে জানাজা, জানাজায় উপস্থিত মানুষের গঠন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাতেও অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।

এ বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে এআই ও ডিপফেক কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘ডিপফেক ও মিটার’ এ আলোচিত ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে এটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়। প্ল্যাটফর্মটির ‘GLFF’ ডিটেক্টরের বিশ্লেষণমতে ভিডিওটি ভুয়া বা এআই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৫ শতাংশ। এছাড়াও, এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী আরেক প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ মডারেশন’ এ আলোচিত ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে এটি এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৭ শতাংশ বলে জানা যায়।

একইভাবে  `আমার ওপর হামলার পরে আমার নামে টাকা তুলে হাদি খেয়েছে’ শীর্ষক মন্তব্যটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের দাবিতে বাংলাভিশনের ডিজাইন সম্বলিত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ড শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। 

ফটোকার্ডটিতে বাংলাভিশনের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘২০ ডিসেম্বর ২০২৫’ উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বাংলাভিশনের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাভিশনের ওয়েবসাইট  ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি নুরুল হক নুরের ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ওসমান হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “বীর ওসমান হাদি, বিদায় দিতে আসিনি, তুমি সব জঙ্গি দের বুকের মধ্যে থাকবে” লেখা দৈনিক প্রথম আলোর লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড প্রচারিত হয়। অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। এর সূত্র ধরে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রথম আলোর ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।  

অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

হাদিকে নিয়ে পাঠকদের সহানুভূতিকে পুঁজি করে দাবিতে  ‘হাদীর খুনির বিচারের দাবিতে ওসমান হাদীর বোনের ভুমিকম্পের মতো বক্তব্য শুনে কাপছে বিএনপি ও সরকার’ শিরোনামে একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রচারিত হয়েছে। সেটি দেখতে পারেন এখানে (আর্কাইভ)। 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে বক্তব্য প্রদানকারী নারী শরিফ ওসমান হাদির বোন নন। প্রকৃতপক্ষে, ওই নারী জুলাই যোদ্ধা জান্নাতুল নাঈম প্রমি। গত ১৯ ডিসেম্বর প্রেসক্লাবে সম্মিলিত নারী প্রয়াস নামে একটি সংগঠনের মানববন্ধনে হাদিকে নিয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার ফুটেজের সাথে আলোচিত শিরোনাম জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Islamic Tv Dhaka নামক ফেসবুক পেজে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিও ফুটেজটির সাদৃশ্য রয়েছে। 

ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি সেদিন শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে সম্মিলিত নারী প্রয়াস নামক একটি সংগঠনের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ভিডিও। ভিডিওতে উক্ত নারীর বক্তব্যের আগে তাকে পরিচয় দেওয়া হয়, জুলাই যোদ্ধা জান্নাতুল নাঈম প্রমি হিসেবে। পরবর্তীতে, Md টাউহিদ নামক ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত উল্লিখিত মানববন্ধনের ভিডিও থেকেও একই তথ্য জানা যায়। 

বাস্তব বিষয় হলো- হাদির বড় বোনের নাম মাহবুবা বেগম, মেঝো বোন মারুফা ইসলাম ও ছোট বোন মাসুমা আক্তার।  জান্নাতুল নাঈম প্রমি নামে শরিফ ওসমান হাদির কোনো বোন নেই। সুতরাং, ভিন্ন নারীর বক্তব্যের ভিডিওকে শরিফ ওসমান হাদির বোনের বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

একইভাবে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ওসমান হাদির স্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, হিজাব-নিকাব পরিহিত একজন নারী বক্তব্য দিচ্ছেন। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটিতে থাকা নারী ওসমান হাদির স্ত্রী নন। তিনি সম্মিলিত নারী প্রয়াস নামে একটি প্ল্যাটফর্মের কোষাধ্যক্ষ, তার নাম রাইহানা সুলতানা নাসিম। তিনি কেয়ারি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর। এ ছাড়া তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত মীর কাশেম আলীর ভাইয়ের মেয়ে।

ডিবিটেক/ফ্যাক্টওয়াচ/রিউমার স্ক্যানার/ইক